প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম (ভিজিট : ৪২১)

X
চিতলমারীতে খাল খননের দাবিতে এলাকাবাসির মানববন্ধন
বাগেরহাটের চিতলমারীতে খাল খননের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসি। উপজেলার হাড়িয়ারঘোপ ও পরাণপুর গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখানকার প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ৩০ হাজার মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
এ খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কারণে এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত খালটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথাবলে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী হাড়িয়ারঘোপ ও পরাণপুর গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সেচ কাজ ও খাওয়া-গোসলের পানি মিলছে না। ফলে পানির অভাবে শত শত পরিবারের রান্না, খাওয়া, গোসল বন্ধ হতে বসেছে।
সুপেয় পানির বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় লোকজনকে আর্সেনিকযুক্ত টিউবয়েলের পানি দিয়ে রান্না,খাওয়া ও গোসলের কাজ চালাতে হচ্ছে বলে জানালেন অনেকে। এতে অনেকের শরীরে চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ খালটি খননের জোর দাবি জানিয়ে ২ মে শনিবার বিকাল ৫ টায় উপজেলার পরাণপুর ও হাড়িয়ারঘোপ এলাকার কয়েক শ’ গ্রামবাসি খালের পাড়ে মানববন্ধন করেছেন। তাদের একমাত্র প্রাণের দাবি খালটি খননের মাধ্যমে এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরাসন করা জরুরী বলে দাবি করেন।
পরাণপুর গ্রামের বোরোচাষি রত্তন শেখ জানান, এ খালের পানি দিয়ে প্রায় ৩শ’ একর জমির চাষাবাদ করা হত কিন্তু বর্তমানে এখালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় চাষাবাদের পানি মিলছে না। এছাড়া হাড়িয়ারঘোপ বাজারের চায়ের দোকানি হান্নান কাজী জানান, ১৯৭১ সালের পর খালটি একবার খনন হয়েছে। এরপর আর কোন খনন হয়নি, ফলে খালটির অস্তিত্ব এখন বিলীন হতে বসেছে।
অনেক স্থানে বাধ দিয়ে লোকজন দখল করে নিয়েছেন। এখন এলাকাবাসির একটাই প্রাণের দাবি দ্রুত খালটি যাতে খনন করা হয় সে ব্যবস্থা করা। নইলে এলাকার মানুষের পানির অভাবে জীবন বাঁচবে না। পরাণপুর গ্রামের বাসিন্দা সেলিম কাজী জানান, এলাকায় পানির সংকটের কারণে অনেকে আমাদের সাথে আত্মীয়তা করতে চায় না। ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া যারা দুরের আত্মীয়-স্বজন তারা এই কারণে বেড়াতে আসতে ভয় পায়। পানির সমস্যা জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি আমাদের খালটি যাতে দ্রুত খনন করে দেয়।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ্ আলম জানান, খালটি খননের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু খালের অনেক স্থানের জায়গা ব্যক্তি মালিকানাধীন দাবি করায় খনন কাজ থমকে গেছে। এলাকাবাসি যদি এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করে তাহলে এটি খনন করা সম্ভব। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দেখা হবে।