সোমবার (৪ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা থানার হলরুমে সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের মামলার সর্বশেষ তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের ধানক্ষেতে সোহেল রানার বিকৃত লাশ পাওয়া যায়। তাকে বিবস্ত্র করে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে এবং শরীরের স্পর্শকাতর অংশ কেটে ফেলে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে- সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম জাবুল ও মো. শাওন। এদের মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তুষার, খোকনসহ আরও কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জবানবন্দি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সোহেল রানার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সুজন কানা তার বাড়িতে তুষার, জাবুল, শাওন ও লিমনকে নিয়ে বৈঠক করে। সেখানে অগ্রিম হিসেবে ২৫ হাজার টাকা মহিনকে দেওয়া হয় এবং বাকি ২৫ হাজার হত্যার পর দেওয়ার কথা ঠিক হয়।
২৫ নভেম্বর সন্ধ্যার পর লিমন ও মহিন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে হত্যাকাণ্ডের স্থল রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের গ্রামের রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই জাবুল ও তুষার হাসুয়া, বাটাম, দুটি লোহার রড ও ছুরি নিয়ে অবস্থান করছিল।তুষার হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় পিছনে কোপ মারে এবং অন্যান্য আসামিরা এলোপাথারি মারতে শুরু করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মহিন তার গলায় একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তুষার তার শরীরের কাপড় খুলে ফেলে এবং মহিন ও অপর আসামি শাওন পাটখড়ি, পেট্রোল দিয়ে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে বিকৃত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে মহিন, জাবুল ও খোকন সুজন কানার বাড়িতে মোটরসাইকেল যোগে বাদবাকি টাকা আনতে যায়। পরবর্তীতে সে টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন ও আসামিদের স্বীকারোক্তি প্রায় পুরোপুরি মিলে গেছে। তবে মূল আসামি সুজন কানা জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরে সরে যায়। হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কিছু রহস্য এখনও উন্মোচিত হওয়া বাকি বলে জানান তিনি।