প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম (ভিজিট : ১২৬)

X
কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬৬ হাজারের বেশি গবাদিপশু
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বাণিজ্যিক খামারীসহ ব্যক্তি পর্যায়ে গরুপালন কারীরা কোরবানির পশু হিসাবে বিক্রয়ের জন্য শেষ মুহূর্তে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সাপ্তাহিক হাটগুলোতে গরুর সরবরাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি বাইরের ব্যবসায়ীদের আগমন বেড়েছে। পাড়া-মহল্লায় গরু ব্যবসায়ীদের যাতায়াতও বেড়েছে কয়েকগুণ। স্থানীয় খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা এবার কোরবানির বাজারে পশুর ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর সংকট নেই। দিনরাত পরিশ্রম করে লাভের আশায় দেশীয় পদ্ধতিতে এসব পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি থাকায় এবার দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকার আশা করা হচ্ছে।
তবে চাষিরা বলছেন, এবার গরু পালনে খরচ বেশি হওয়ায় দামও কিছুটা বেশি হবে। কোরবানিকে সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেপারিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর দরদাম করছেন। অন্যদিকে ঈদ ঘিরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার একমাত্র শরৎনগর পশুর হাটে সরবরাহ বেড়ে গেছে। সেভাবে বেচাকেনা জমে না উঠলেও বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারও জমজমাট হবে কোরবানির পশুর বাজার।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,এ উপজেলায় ২৬ হাজার ৮শ' ৮৭টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে ৩৯ হাজার ৬শ'৪৬টি উদ্বৃত্তসহ মোট ৬৬ হাজার ৫শ'৩৩টি কোরবানির পশু স্থানীয় ভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ফার্মে পালন করা হয়েছে।পশুর শ্রেণিবিন্যাস হিসাবে ষাঁড় জাতীয় পশু ১৫ হাজার ২শ'৫৮টি, বলদ জাতীয় পশু ১হাজার ৬চ'১৫টি গাভী জাতীয় পশু ৫ হাজার ৪শ'৯৩টি,সাধারণ জাতের গবাদি ২২ হাজার ৩শ'৬৬টি মহিষ ১শ'২৪টি ছাগল ৩৭ হাজার ৭'৩৬টি , ভেড়া ৬ হাজার ৩শ'৭টি। প্রতি বছরের মতো এবারও চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তত রয়েছে উপজেলায়।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার হারো পাড়ার খামারি আঃ কাদের জানান, প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে পশুগুলোকে সুস্থ এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিচর্যা করছি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত এসব পশু দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা হবে। ঈদের ১৫/১৭দিন সময় থাকলেও এখন থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় গরুর আধিপত্য না থাকলে তারা লাভবান হবেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছরে গো-খাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে ধারণা তাদের।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. রুমানা আকতার রোমি বলেন, কোরবানিতে স্থানীয় পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এমন কোনো গ্রাম খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে খামার নেই। খামারি ও আমাদের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ গবাদি পশুর মাংস উৎপাদনে পশু হৃষ্টপুষ্টকরণের ব্যাপারে খামারিদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।