মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলা করল কারা? যা জানা গেল

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী

মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলা চালিয়েছে একদল লোক। গতরাতে ওই হামলার শিকার কয়েকজন বলছেন, হামলাকারীরা

2026-05-15T20:10:21+00:00
2026-05-15T20:10:21+00:00
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬ ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬
   
মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলা করল কারা? যা জানা গেল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৮:১০ পিএম   (ভিজিট : ১৮১)
শাহ আলী মাজারে হামলা
X

শাহ আলী মাজারে হামলা

মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলা চালিয়েছে একদল লোক। গত রাতে ওই হামলার শিকার কয়েকজন বলছেন, হামলাকারীরা জামায়াত শিবিরের লোক। তবে ওই এলাকায় জামায়াত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) দাবি করেছেন, সেখানে তার দলের কোনো লোক ছিল না, যা ঘটেছে তা ‘পুলিশের মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অংশ।

বৃহস্পতিবার রাতে মাজার জিয়ারত করতে আসা লোকজন বলছেন, হামলাকারীরা মাজারের ভেতর পর্যন্ত গিয়ে লোকজনকে মারধর করেছে।

আব্দুস সবুর নামে একজন বেসরকারি চাকুরে বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে একটি সাপ্তাহিক ওরশ হয়। সেখানে ঢাকা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন আসে।

বৃহস্পতিবার রাতে সেই ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে জিয়ারতকারীদের মারধর শুরু করে।

পিটুনিতে আহত এক ব্যক্তি বলেন, “কিছু লোক আসছে লাঠি নিয়া… একটা বিদিকিচ্ছিরি তৈয়ার কইরা দিছে। অনেক লোক দৌড়াদৌড়ি করছে, আমি মেইন গেইটে বাইরইবার গেছি, আমাকে মাথাত বাড়ি দিছে।”

হাতের মোবাইল ফোনে ঘটনার কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, “এই লোকগুলি নেতৃত্ব দিছে, এই যে দেখেন একটা ছেলে।… ওরা নেতৃত্ব দিছে।”

পুলিশ সাদা পোশাকে এখানে অভিযান চালিয়েছে কি না প্রশ্ন করলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন সমস্বরে ‘না’ ‘না’ বলে ওঠেন।

তাদের একজন বলেন, ওই সময় মাজারের গেইটের বাইরে পুলিশের চারটি গাড়ি থাকলেও তারা ভেতরে ঢোকেনি।

“এরা নিশ্চই একটা পরিকল্পনা কইরা তারপরে আসছে। নাইলে পুলিশ কেন ভেতরে ঢুকল না?”

তাহলে কারা হামলা চালিয়েছে জানতে চাইলে পাশ থেকে একজন বলেন, “সব জামায়াতের লোক।”

পুলিশের মিরপুর বিভাগের বিভাগের উপ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, মাজার এলাকায় পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে সেখানে কিছু উৎসুক মানুষ নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে।

তবে হামলার সময়ের যেসব ভিডিও ফেসবুকে এসেছে, সেখানে অর্ধশতাধিক লোককে লাঠি হাতে মারধর করতে দেখা গেলেও কোনো পুলিশ দেখা যায়নি।

কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করে দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল বলেন, মাজারে তো আমরা অভিযান চালাইনি। রাতে যেটা দেখলাম যে জামায়াত-শিবিরের পোলাপান মনে হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপি থেকে মিরাজ যেমন নিজ উদ্যেগে অভিযান চালিয়েছিল কালকে মনে হয় জামায়াত শিবির নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। এখানে পুলিশের কোনো ইনভল্ভমেন্ট নেই। 

পুলিশ সেখানে গিয়েছিল কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না না না, একটা পলিটিক্যাল পার্টির সাথে আমরা কীভাবে অভিযান করব!

অভিযানে এডিসি, ওসিসহ অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা গিয়েছিলেন বলে তথ্য দিয়েছেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, না না, কেউ অভিযানে যায়নি। কে বলেছে আপনাকে?

পরে তাকে জানানো হয় মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারও এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর সরকারি কমিশনার বিপুল বলেন, অভিযান করেছে তারাই (জামাত-শিবির), আমরা ভেতরে ঢুকিনি।

তাহলে পুলিশ বাইরে ছিল কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাইরেও থাকিনি আমরা। আমরা দেখছি যে একটি ঝামেলা... আপনাকে ক্লিয়ারকাট বলি, কোনো পলিটিক্যাল পার্টির সাথে এনগেজ হয়ে অভিযান করার মত সুযোগ নেই আমাদের। যখন আমরা আঁচ করতে পেরেছি যে এরকম একটা অভিযান উনারা (জামায়াত-শিবির) করবে, তখন আমরা আজকে কোনো অভিযান করব না বলে সিদ্ধান্ত নিই। তখন আমরা আমাদের মত ব্যাক আর কি।

তবে শাহ আলী থানার ওসি বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ঘটনা হচ্ছে রওজার পূর্ব পাশে যেখানে শুক্রবারে নামাজ পড়ে, সেই জায়গায় বাইরে থেকে আসা কিছু মহিলা ও পুরুষ মাদুর বিছিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসেছিল। তখন মাজারের জিয়ারতকারীরাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়।

মিরপুর এলাকার সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার আরমান ঘটনার সঙ্গে তার দলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেখানে যা ঘটেছে সেটা ‘পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের ফলাফল’।

তিনি বলেন, পুলিশ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে সেখানে প্রতিদিন রাতে গাঁজার আসর বসে, বৃহস্পতিবার রাতে অনেক মাদকসেবীর আড্ডা হয়। এখানে একটা বড় অভিযান চালানো হবে। এতটুকুই আমাকে জানানো হয়েছিল।

সেই অভিযানে জামায়াতের লোকজন বা স্থানীয় লোকজনের অংশগ্রহণ ছিল কিনা প্রশ্ন করা হলে এই সংসদ সদস্য বলেন, না। ব্যাপারটা হচ্ছে একটা ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এরকম অবৈধ অশ্লীল কাজে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত।

সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম





Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy