
X
বগুড়ায় ১৬ ঘণ্টায় তিন খুন, জনমনে আতঙ্ক
বগুড়া জেলায় মাত্র ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাতে খুন এবং মাদকাসক্ত বাবার হাতে পাঁচ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) গভীর রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল পর্যন্ত গাবতলী ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিজ ঘরে খুন হন রীতা রানী মজুমদার (৪৫)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছেলে-মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করায় স্বামী-স্ত্রী বাড়িতে একাই থাকতেন। রাতে খাবার শেষে তারা আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে স্ত্রীর ঘর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে বিধান চন্দ্র রায় এগিয়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীর মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় বাড়ির সদর দরজা খোলা ছিল।
গাবতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হয় নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ আল সায়েম মুস্তাকিম (১৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ফুটবল খেলা ও সমর্থনকে কেন্দ্র করে পাশের নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহাদত হোসেনের সঙ্গে মুস্তাকিমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুস্তাকিমকে একা পেয়ে শাহাদত, তার বাবা শাহা আলী এবং চাচা লিখন মিয়া লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে মুস্তাকিমের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাবতলী উপজেলার বালিয়াঘাট ইউনিয়নের কলাকোপা সুবোধ বাজার এলাকায় ঘটে আরেক হৃদয়বিদারক ঘটনা। রায়হান আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তান আব্দুল্লাহকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রায়হান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে হঠাৎ শিশুটির গলা চেপে ধরে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
গাবতলী মডেল থানার ওসি রাকিব হাসান জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বগুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বেড়েছে। ঘটনাগুলোর পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।