
X
ছবি: প্রতিনিধি
ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজারের নিয়মিত কার্যক্রম।
দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আবারও স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ছুটি শেষে সোমবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে আগের পরিচিত ব্যস্ততা। কর্মজীবী মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরের অলিগলি ও প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কেট ও বিভিন্ন দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট, আগ্রাবাদ, একে খান গেট, অলংকার মোড় ও চকবাজার, ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় রিকশা, বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মতো যানজট ও ব্যস্ততা দেখা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এবং শপিংমলগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তবে ঈদের ছুটির সময়ও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগসহ জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু ছিল। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঈদের ছুটি শেষে সোমবার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রমও স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন করতে পারবেন। একই সময়সূচিতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সোমবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর স্টক এক্সচেঞ্জটির অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এদিকে ঈদের ছুটি শেষে গ্রাম থেকে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের সময় কাটিয়ে অনেকেই শহরমুখী হয়েছেন। চট্টগ্রাম নগরে যেমন মানুষের আগমন বেড়েছে, তেমনি ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য ছিল। রবিবার (৩১ মে) বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিটি ট্রেনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। স্টেশনজুড়ে নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। বিভিন্ন ট্রেন থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী নামতে দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী জানান, ঈদের আগে বাড়ি ফেরার সময় ভোগান্তির শিকার হলেও ফিরতি যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
ঢাকামুখী ট্রেনগুলোতেও ছিল যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে যাত্রা করেছেন। কয়েকজন যাত্রী জানান, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে। তবে যারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তারা এ ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরের গরিবউল্লাহ শাহ এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতেও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী বাসগুলো প্রায় পূর্ণ যাত্রী নিয়েই ছেড়ে গেছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, অধিকাংশ ফ্লাইটই ছিল পূর্ণ যাত্রীতে ভরা। অনেকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঢাকামুখী ফ্লাইটে যাত্রা করেছেন।
ছুটি শেষে রবিবার বিকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যের চিত্র ফিরে আসতে শুরু করে। নগরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজটও দেখা গেছে। তবে অনেক মার্কেট তখনও বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে মার্কেটগুলোতেও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হবে।