
X
সংবাদ সম্মেলন
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কথিত ভূমিদস্যু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২কোটি টাকা চাঁদা দাবি, হামলা এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন জমির মালিক।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার সিদ্ধিরগঞ্জ ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমির মালিকদের পক্ষে মোঃ আবু ছায়েদ শিপন। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ ট্রেড সেন্টারের আরও উপস্থিত ছিলেন মো. মেহেদী হাসান, মো. শাহিন মিয়া, মো. আবু ছায়েদ শিপন, খোকন আহমেদ, আব্দুল কাদির, নজরুল ইসলাম, স্থানীয় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমির হোসেন বাদশাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকার খোদঘোষপাড়া মৌজার আরএস খতিয়ানভুক্ত বিভিন্ন দাগের মোট ৮২ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি তারা বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমির মালিকদের দাবি, স্থানীয় মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে উক্ত সম্পত্তির একটি অংশ মসজিদ নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে একটি ফিলিং স্টেশন উচ্ছেদ হওয়ার পর সাময়িকভাবে তার কিছু যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের জন্য তাদের জমি ব্যবহারের অনুরোধ করেন। প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের কারণে মানবিক বিবেচনায় জমির মালিকরা তাকে অস্থায়ীভাবে ওই সুবিধা প্রদান করেন।
তবে পরবর্তীতে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সংশ্লিষ্ট জমির ওপর মালিকানা দাবি করেন এবং বিভিন্ন কৌশলে জমি দখলের চেষ্টা চালান বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২৭ মে জমিতে উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে আব্দুস সাত্তার ও তার অনুসারীরা সেখানে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন জমির মালিকরা।
তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এছাড়া হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং জমির সীমানা নির্ধারণে ব্যবহৃত টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকরা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।