
X
১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মৃগী নদীর ওপর হাউলিরপাড়-খড়িয়া কাজিরচর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ খড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে কাজ চলায় বাটি লংগরপাড়া, উত্তর খড়িয়া, দক্ষিণ খড়িয়া, পূর্ব খড়িয়া, বীরবান্দা ও উলুকান্দাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরোনো সেতু ভেঙে পড়ার পর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৭ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে চট্টগ্রামের মেসার্স মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লি.। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখে।
এদিকে চলাচলের জন্য নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকোও সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন। ফসল বাজারে নেওয়া, রোগী হাসপাতালে পৌঁছানো এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, এই ভোগান্তি থেকে কবে মুক্তি পাবো। সারে তিন বছর থেকে ব্রিজটির কাজ হচ্ছে কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। সাইডে একটা বাঁশের সাঁকো ছিল সেটিও ভেঙে গেছে। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নাই। একটি অস্থায়ী সাঁকো দ্রুত চালু করা এবং মূল সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি আমাদের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রনকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। বিকল্প কাঠের সাঁকো দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মূল সেতুর নির্মাণকাজও পুনরায় শুরু হবে।