মৃত্যুর মুখেও ছাড়েননি একে অপরকে, আলিঙ্গনবদ্ধ দম্পতির মরদেহে আবেগঘন মুহূর্ত

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের রাজধানী দিল্লিরফ্লরিশ স্টে বিএনবি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন

2026-06-04T19:17:04+00:00
2026-06-04T19:29:03+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মৃত্যুর মুখেও ছাড়েননি একে অপরকে, আলিঙ্গনবদ্ধ দম্পতির মরদেহে আবেগঘন মুহূর্ত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম  আপডেট: ০৪.০৬.২০২৬ ৭:২৯ পিএম  (ভিজিট : ৩৯)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজধানী দিল্লির ফ্লরিশ স্টে বিএনবি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধোঁয়া ও আগুনের হাত থেকে বাঁচতে শৌচাগারে আশ্রয় নেওয়া এক দম্পতির মরদেহ আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শোয়েব জানান, হোটেলের একটি শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি এক দম্পতিকে আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পান। তার ভাষ্য, নারীটি কমোডে বসা ছিলেন এবং পুরুষটি পাশের চেয়ারে বসে তাকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন। আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতেই তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। “তারা আগুনে পুড়ে মারা যাননি, ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।”

উদ্ধারকারীদের সঙ্গে ছিলেন আশরাফ খান ও মোহাম্মদ আফজালও। কোনো ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তারা ধোঁয়ায় ভরা ভবনে প্রবেশ করে উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। ভবনের ভেতরে রিসেপশনের কাছে এক তরুণীর ঝলসে যাওয়া মরদেহ এবং হুইলচেয়ারে বসা এক ব্যক্তির মরদেহও পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোটেলটির মূল সিঁড়ি ভবনের মাঝখানে ছিল এবং কোনো জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর বহু অতিথি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। অনেক বিদেশি অতিথি প্রাণ বাঁচাতে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুদ্দিন মনসুরি ও তার ছেলে আরমান ভবনের নিচে ২০ থেকে ২২টি তোশক বিছিয়ে দেন, যাতে মানুষ নিরাপদে লাফিয়ে নামতে পারে। এতে তাদের প্রায় দুই লাখ রুপির ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হোটেলের বেসমেন্টে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সে সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ১৭টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অন্তত ৫৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তদন্তে হোটেলটির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের তথ্যও উঠে এসেছে। ভবনটিতে যাতায়াতের মাত্র একটি পথ ছিল এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন (ফায়ার এনওসি) ছিল না। এছাড়া ৬টি কক্ষের অনুমোদন থাকলেও সেখানে ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করা হচ্ছিল।

ঘটনার পর হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, আতঙ্কে তিনি নিজের জ্বলন্ত হোটেলের সামনে দিয়েই গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy