
X
কথিত কবিরাজের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামের কথিত কবিরাজ বৃষ্টি আক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃষ্টি আক্তার বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি, পারিবারিক সমস্যা ও ব্যক্তিগত সংকটের সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাড়ি বন্ধ দেওয়ার জন্য ২১০০ টাকা নেই এবং বাচ্চাদের চিকিৎসার জন্য ৩৫০ টাকা করে নেই।”
অনুসন্ধানে তার ব্যবহৃত কক্ষে কোরআন শরীফ, ত্রিশূল এবং বিভিন্ন পূজার সামগ্রী দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃষ্টি আক্তার দাবি করেন, “কালী, মহাদেব ও জিন আমার সঙ্গে কথা বলে।” তিনি আরও বলেন, “হিন্দুধর্মও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই কোরআন শরীফের পাশে ত্রিশূল ও পূজার সামগ্রী রাখা যায়।”
তার এসব বক্তব্য ও কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মন্তব্য করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহের সময় বৃষ্টি আক্তারের স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জুন সকাল ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
সরেজমিনে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা শেষে প্রশাসন বৃষ্টি আক্তারের কথিত কবিরাজি চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এ সময় ইউএনও মুহাম্মদ আশিক কবির সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুমোদনহীন ও বিতর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসি আবদুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি আক্তারের শ্বশুর কিবরিয়া মোল্লা। তাদের বাড়ি মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া এলাকায়।
স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।