প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:১২ পিএম (ভিজিট : ৮৪)

X
থানার সামনে বিক্ষোভ
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রেমের সম্পর্কের বিয়ের ৬ মাস যেতেই স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজনগ্রামের স্বামীর নিজ বাড়িতে।
খবর পেয়ে রামগতি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান। এ এঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা না হওয়ায় ভুমিহীন সংগঠন ও নিজেরা করি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) উদ্যোগে বুধবার বিকেলে থানা ফটকে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানববন্ধনের আয়োজন করে। নিহতের পরিবারসহ কয়েকশ নারী পুরুষ অংশ নেন।
পরে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ওসির সাথে আলাপ করে হত্যার প্ররোচনায় আত্মহত্যা করেছে মর্মে মামলার আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভ কারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে স্থান ত্যাগ করেন। মেয়ের মা বাদী হয়ে ওই মামলা দায়ের করবেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায় আলেকজান্ডার কামিল মাদ্রাসার ৮ ম শ্রেনীর ছাত্র সুজন গ্রামের মোঃ হানিফের মাহিম (১৪) একই মাদ্রাসার ৯ ম শ্রেনীর ছাত্রী রামগতি পৌরসভার চর সেকান্দর গ্রামের প্রবাসী আবদুল মালেকের মেয়ে মারিয়া জাহান মীম তরা উভয় প্রেমের সম্পর্কে জড়ান, একপর্যায়ে পালিয়ে গিয়ে উভয় পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন পর ছেলে মাহিম স্ত্রী মীমকে নিয়ে নিজ বাড়িতে উঠেন। মেয়ের মা বাবা এই বিবাহ মেনে না নেওয়ায় মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকতো।
ঘটনার দিন তারা খবর পান মেয়ে মারা গেছে এঘটনায় তারা হতবাক হয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান। এসময় স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় ক্ষতিপুরন পাওয়ার আশ্বাস পেয়ে মেয়ের পরিবার ময়নাতদন্তের পর লাশ নিজ বাড়িতে এনে দাপনের ব্যবস্থা করেন। মামলা না হওয়ায় ও লাশ দাফন করায় ছেলের পরিবার আপশ রফার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যান এবং গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে যান।
পরে মেয়ের বাবা থানায় এসে মামলা নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সাথে আলাপ করে ওসি মামলা করতে পরিবার কে পরামর্শ দেন।
মেয়ের বাবা আবদুল মালেক মেয়ে আত্মহত্যা নয় হত্যা হয়েছে দাবি করে সুস্থ বিচার চান এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।
রামগতি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লিটন দেওয়ান জানান, মীমের অপমৃত্যু নাকি হত্যা করা হয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বুঝা যাবে, আপাতত হত্যার প্ররোচনার মামলা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের বিশেষ টিম আসামিদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং তদন্ত কাজ ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে।