
X
ছবি: প্রতিনিধি
ফেনীর দাগনভূঞা জিরো পয়েন্ট এলাকাটি উপজেলা সদর ও আশপাশের সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে যানজট, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং পথচারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বাজারের ব্যস্ত সময়, স্কুল ছুটির সময় এবং সন্ধ্যার দিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিয়ম কানুনের কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে কার আগে কে যাবেন এমন প্রতিযোগিতার মনোভাবে ঘটে প্রতিনিয়ত ছোটখাট দূর্ঘটনা। পৌর শহরে দ্রুত যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সড়ক দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পথচারিগন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সম্প্রতি জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। যেখানে ট্রাকের নিছে মোটরসাইকেল এতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন দুইজন। এছাড়া ট্রাক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বনফুলের সামনে কয়েকটি সিএনজির পিছনে সংঘর্ষ ঘটে। এমন পরিস্থিতির বিষয়ে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারমধ্য ঝুঁকি বাড়ার প্রধান কারণগুলো হলো, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার বেপরোয়া গতি, বাজার ও ফুটপাতের ভিড়ের কারণে পথচারীদের রাস্তা পারাপার, অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল,ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি ও উঠে আসে।
সাম্প্রতিক সময়ে দাগনভূঞা উপজেলায়ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যেখানে বাধন পরিবরহন দ্রুত চলাচলে মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিলে পৌরসভার উপ প্রকৌশলী জুনায়েদ কাওছার সৌরভ নিহত হন। উপজেলা থেকে জিরো পয়েন্ট এলাকায় চলাচলের সময় বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহী, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক পথচারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত। রাস্তা পারাপারের আগে দুই দিক দেখে পার হওয়া, হেলমেট ব্যবহার এবং অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, জিরো পয়েন্টে চার পাঁচটি সড়কের সংযোগ স্থল গোল চক্কর। এখানে ঘটে মারাত্মক যানজট। যার অন্যতম কারণ নোয়াখালী ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়ক দাগনভূঞা পৌর শহরে সড়কের পাশেই অটোরিকশা ও সিএনজির এলোমেলো পার্কিং, দ্রুত গতিতে চলাচলকারি বিভিন্ন পরিবহন যেখানে মানছে না কোন প্রকার গতিসীমা। বেপরোয়া গতি সম্পন্ন যানবাহন চলাচলের মধ্যখানে চলাচল করছেন পথচারিগন যার কারনে দূর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে।
দাগনভূঞা পৌরসভা থেকে দুইজন ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন। এরপরও নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হচ্ছে না। অব্যবস্থানায় যানবাহন বিভিন্নভাবে পার্কিং কখনো ঠিক না হলে জিরো পয়েন্ট কিংবা গোল চক্কর চরম ঝুঁকিতে থাকবে।
দাগনভূঞা বাজার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন জানান, জিরো পয়েন্টকে যানজটমুক্ত করতে হলে প্রধান সড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং সরিয়ে নিতে হবে। এ বিষয়ে অনেকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। নিয়মকানুন কেউ মানছে না। যতক্ষণ ট্রাফিকের দায়িত্বে লোক থাকেন ততক্ষণ ঠিক থাকে এরপর আবার আগের মতো হয়ে যায়।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফয়জুল আজীম নোমান জানান, ট্রাফিক এবং পুলিশ বক্স স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা যায়।
পথচারিগন নতুন যুগের এআই প্রযুক্তি সংযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন যেমনটি ঢাকা শহরে করা হয়েছে। এরকম করা হলে ফেনী নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে গতিসীমা ঠিক থাকবে এবং সবাই দ্রুত সচেতন হবে বলে মনে করেন সর্বসাধারণ।