
X
সংগৃহীত ছবি
‘রোড ডিভাইডারে গাছ লাগাই, সবুজে সাজাই শহর সবাই’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তেজগাঁওয়ের বিটিআই ও আমাদের সময়ের মাঝখানের সড়ক ডিভাইডারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনটি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান এবং দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার, আমাদের সময়ের অনলাইন ইনচার্জ বিপুল হাসান, সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ কাফি, গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য গিরীশ গৌরিক, এমিলিয়া খানম, লাভন্য লিপি, আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লাসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে শিকদার এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আমিনুল ইসলাম।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, “পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও বাসযোগ্য রাখতে হলে পরিবেশের বিকল্প নেই। যেহেতু পৃথিবী দিন দিন উষ্ণ হয়ে উঠছে, তাই আজ থেকে ১০ বছর আগে এ দেশের গড় তাপমাত্রা কত ছিল আর এখন কত—এসব বিষয় সবাইকে অনুধাবন করতে হবে।
বাসযোগ্য দেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। আমরা আজ এখানে নিমগাছ রোপণ করেছি। প্রশ্ন আসতে পারে, নিমগাছ কেন?
কারণ নিমগাছ বেশি অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং বেশি পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি নাগরিকদের স্বস্তি দেবে। সবুজ পৃথিবী গড়তে প্রত্যেকের অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত। বর্তমান সরকার পরিবেশের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাজুড়ে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।”
গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, “পৃথিবীব্যাপী উষ্ণায়নের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় বেশি বেশি গাছ লাগানো। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ দিবসকে ঘিরে আজ গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তেজগাঁও এলাকায় রোড ডিভাইডারের মাঝখানে গাছ লাগানো হলো। আমরা এখানে অনেকগুলো নিমগাছের চারা রোপণ করেছি। এটি একটি ঔষধি গাছ। আপনারা জানেন, নিমগাছ খুবই উপকারী একটি গাছ। এটি মানুষের রূপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যচর্চায় বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। আসুন, সবাই অন্তত একটি করে গাছ লাগাই। সবুজে ভরে উঠুক সারা পৃথিবী।”
গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার বলেন, “আজ আমরা একটি সুন্দর ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে একত্রিত হয়েছি—সড়কের ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে। একটি গাছ শুধু পরিবেশ সুন্দর করে না, এটি আমাদের জীবন রক্ষা করে, বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়, তাপমাত্রা কমায় এবং শহরকে বাসযোগ্য করে তোলে। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র গরম, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সচেতন প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সবুজ নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ডিভাইডারে রোপিত প্রতিটি চারা হবে দূষণের বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিবাদ, উষ্ণতার বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিরোধ এবং জীবনের পক্ষে একেকটি সবুজ ঘোষণা। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বৃক্ষ সংরক্ষণেও সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষা করা।”
গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য, কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৌরিক বলেন, “পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আমরা দেশব্যাপী গাছ লাগাতে চাই। এই প্রত্যাশা নিয়ে আজ আমাদের যাত্রা শুরু হলো। সরকারের সবুজায়নের উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশন সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।”