প্রকাশ: রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম (ভিজিট : ৪৬)

X
হিমসাগরের ঘ্রাণে মুখর মেহেরপুর, বিদেশে পাঠাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
মেহেরপুরের আমচাষি ও বাগান মালিকরাজিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ ও রপ্তানির প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আমকে কীটনাশক, পোকামাকড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে বাগানগুলোতে ব্যাপকভাবে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদার পাশাপাশি বিদেশেও রয়েছে মেহেরপুরের হিমসাগর আমের সুনাম। অন্যান্য বছরের মতো এবারও বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যঅনুযায়ী,জেলায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে হিমসাগর, আম্রুপালি, ফজলি, গোপালভোগ আশ্বিনা ও বারি-৪, গৌরমতি জাতের আম চাষ হয়েছে। এতে ৪০ হাজার টন আমের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। যার বাজার মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৬৫ থেকে ১৭০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতেই হিমসাগর আমের বাগান রয়েছে। উক্ত বাগান থেকে ২ হাজার ৪০০ টন আম পাওয়া যাবে। এতে কৃষকদের আয় হবে প্রায় শতকোটি টাকা।
স্বাদ ও পুষ্টিতে ভরপুর হিমসাগর আম অতান্ত লাভজনক হওয়ায় বাগান মালিকরা প্রতি বছর বাগানের সংখ্যাও বৃদ্ধি করছেন। গেল ৫ বছর যাবৎ মেহেরপুরের উৎপাদিত হিমসাগর আম দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তারিকারক প্রতিষ্ঠান আম সুরক্ষায় ফ্রুটিংব্যাগ ব্যবহারসহ বিষমুক্ত ও নিরাপদ পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী চলতি বছরেও হিমসাগর আম প্রস্তত করছেন আম চাষিরা।
মেহেরপুরের গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস (গ্যাপ) সনদপ্রাপ্ত আম চাষি শাহিনুজ্জামান জানান, প্রতি বছর তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করেন। এক মাস আগে বিদেশীরা এসে আম প্রস্ততকরনের পরামর্শ দিয়ে যান। আমরাও পরামর্শ অনুযায়ী আম পস্তত করে রপ্তানি করি| এ বছরেও তিনি ৫ থেকে ৭ টন হিমসাগর আম রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঝাওবাড়িয়া গ্রামের আম চাষি সাহাবুদ্দিন বলেন, মেহেরপুরের হিমসাগর আমের চাহিদা বেশ ভাল| আম ফ্রুটব্যাগিং করার কারনে বিভিন্ন পোকামাকড় থেকে আম রক্ষা পায়। এতে আম থাকে বিষমুক্ত স্বাস্থ্য সম্মত| দেশের বিভিন্ন বাজারে আমাদের আমের কদর দিনদিন বাড়ছে।
সুবিদপুর গ্রামের আমচাষি আব্দুল জলিল জানান,উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদন করা হয়। যা ইউরোপের সুইজারল্যান্ড বেলজিয়াম ইটালি, এশিয়ার চিন জাপান কানাডাসহ মোট বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করা হয়| বিদেশ থেকে বায়াররা এসে আমাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে নানা পদ্ধতি শিখিয়েছে| তার মধ্যে গুরুত্বপুর্ণ ফ্রুটব্যাগিং পদ্ধতিতে আম সংরক্ষণ।
জেলা কৃষি বিপনন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, মেহেরপুরের হিমসাগর আম ইতোমধ্যে জিআই পন্য স্বীকৃতি লাভ করেছে। আমের স্বাদ ও গুণগতমান ঠিক থাকায় বিদেশেও দিনদিন চাহিদা বাড়ছে| বিদেশে আমের বাজার সম্প্রসারিত করতে কৃষি বিপনন অধিদপ্তর কাজ করছে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজিব মৃধা জানান, জিআই স্বীকৃত মেহেরপুরের হিমসাগর আম এখন শুধূ বাংলাদেশে নয়, বিদেশের বাজারেও জনপ্রিয়| বিষমুক্তও নিরাপদ আম উৎপাদনে বাগানমালিকদের কারিগরি প্রশিক্ষণসহ নানা ভাবে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে কৃষি বিভাগ।