
X
ছবি: প্রতিনিধি
বড় ছেলে, ছোট মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে নিজ গৃহে ১৪তম শুভ বিবাহবার্ষিকীর কেক কাটলেন নওগাঁ জেলার বিশিষ্ট সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিন। সম্প্রতি তিনি নওগাঁ সদরের বাসায় এসে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এ বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেন।
জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানদের আমন্ত্রণে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টা ১ মিনিটে নওগাঁ সদর উপজেলার লাটাপাড়া এলাকায় নিজস্ব তিনতলা ভবনে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেন। এ সময় তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, মাতা জাহানারা বেগম এবং দুই ভাই উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ জেলার সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিন বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, “আমার সাংবাদিকতার বয়স প্রায় দেড় যুগ। ২০১০ সালে একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করি। পরে ২০১৭ সালে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে কাজ করি। ২০১৮ সালে আমার সেজ দুলাভাই সাংবাদিক আরিফুল হক অসুস্থ হয়ে পড়লে তার কর্মস্থল এইচআরসি গ্রুপের জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকা আমাকে নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
মরহুম আরিফুল হক নওগাঁর অন্যতম সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন। তিনি নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবদ্দশায় তিনি জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন ও বৈশাখী টেলিভিশনের নওগাঁ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার মৃত্যুর পর আমি সেই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাই।
২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিশেষ সংবাদ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ও পাঠকদের আস্থা অর্জন করেছি।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু জটিলতার কারণে যায়যায়দিন পত্রিকা ও এইচআরসি গ্রুপের ভবন নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ কারণে অনেক সাংবাদিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। পরে এইচআরসি গ্রুপের পক্ষ থেকে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন ও ইংরেজি দৈনিক The Daily Business Times-এ নতুন করে জেলা, উপজেলা ও স্টাফ রিপোর্টার নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি।
আমি মনে করি, আমি আমার প্রতিষ্ঠান এবং মরহুম দুলাভাই সাংবাদিক আরিফুল হকের সম্মান রক্ষা করতে পেরেছি। আজ ১৪ বছর পর সন্তানদের সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করে নিজেকে কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনে সফল মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ লেখার সময় হঠাৎ সন্তানদের ফোন পাই। তারা আমাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলে। পরে বাসায় এসে স্ত্রী, ছেলে হুজাইফা, মেয়ে মারিয়াম, বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে ১৪তম শুভ বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করি। অনুষ্ঠানে ৫ পাউন্ডের কেক, পোলাও, মাংসসহ বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।”
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুহুল আমিন বলেন, “সন্তানদের ফোন পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে এসে দেখি তারা সুন্দর একটি পারিবারিক আয়োজন করেছে। বিষয়টি আমাকে ভীষণ আনন্দিত করেছে।”
সাংবাদিক রুহুল আমিনের স্ত্রী আফরিন জান্নাত, যিনি বাংলা বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে গৃহিণী, বলেন, “রুহুল আমিন আমার কলেজজীবনের সিনিয়র ছিলেন। পরিচয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১২ সালে দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী আমাদের বিয়ে হয়।
আমার স্বামী সততা ও সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি তার পেশাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত সংবাদ তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন। আমি সবসময় তার কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকি এবং তার পেশাকে সম্মান করি।
আজ আমাদের ১৪তম শুভ বিবাহবার্ষিকী। সন্তানদের আবদারে আমার ফোন থেকেই বড় ছেলে হুজাইফা তার বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলে। সন্তানদের ভালোবাসার ডাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে বাসায় চলে আসেন।”
তিনি আরও বলেন, “রুহুল আমিন শুধু নওগাঁ নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় তার লেখনীর মাধ্যমে পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছেন। আমি একজন সৎ, সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকের স্ত্রী হিসেবে গর্ববোধ করি। আমি দেখেছি, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করে সংবাদ তৈরি করেন। অনেক সময় অনুসন্ধানী বা অপরাধবিষয়ক সংবাদ প্রকাশের কারণে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখোমুখিও হন। কিন্তু তিনি কখনো সত্য প্রকাশের পথ থেকে সরে আসেন না।
আজ আমাদের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবন। সন্তানদের আয়োজনে এ বিশেষ দিনটি উদযাপন করতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”