
X
ছবি: প্রতিনিধি
এক মাস ২৫ দিনের কন্যাশিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মা তানজিলা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিশ্বাস করে এসেছিলেন, তার আদরের সন্তানকে নাকি ‘জিনে নিয়ে গেছে’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানা গেল, অভাবের তাড়নায় তার স্বামীই নিজ কন্যা শিশুকে অন্যের কাছে টাকার বিনিময়ে দিয়েছেন। পুলিশের অভিযানে অবশেষে উদ্ধার হওয়া শিশুটি ফিরে এসেছে মায়ের কোলে।
ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. সাগর হোসেন (৩৪) সহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের শাহাবুর-মনিরা দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নবজাতক টুকটুকিকে তার মা তানজিলা খাতুনের কোলে তুলে দেয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে শিশু টুকটুকিকে ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রেখে মা গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলো। এদিকে
স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে স্বামী সাগর হোসেন তাদের এক মাস ২৫ দিনের কন্যাশিশু টুকটুকিকে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের মো. শাহাবুর (২৮) ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুনের কাছে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর করেন।
পরে সন্তানকে না পেয়ে বারবার স্বামীর কাছে জানতে চাইলে তানজিলাকে বিভ্রান্ত করতে সাগর দাবি করেন, শিশুটিকে ‘জিনে নিয়ে গেছে’। এমনকি কবিরাজের মাধ্যমে জিনের কাছ থেকে সন্তানকে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি প্রায় দুই মাস সময়ক্ষেপণ করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) শুভংকর রায় তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর হোসেন পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভাবের কারণে মেয়েকে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছিলাম। পরে স্ত্রীকে বুঝানোর জন্য বলেছি জিনে নিয়ে গেছে। এটা আমার ভুল হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।