পাহাড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এলাকায় বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে হঠাৎ করে হাম ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর দ্রুত মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আক্রান্ত

2026-06-20T16:28:46+00:00
2026-06-20T16:28:46+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
পাহাড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এলাকায় বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম   (ভিজিট : ৩৫)
পাহাড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এলাকায় বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন
X

পাহাড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এলাকায় বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে হঠাৎ করে হাম ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর দ্রুত মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় যৌথভাবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে Border Guard Bangladesh (বিজিবি) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিপি-৭১ সংলগ্ন বংকু ত্রিপুরা পাড়া, প্রদীপ ত্রিপুরা পাড়া ও শালুকিয়া ত্রিপুরা পাড়ায় এ বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

এই কার্যক্রমের আয়োজন করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এবং থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ৩৮ বিজিবির মেডিকেল অফিসার মেজর তাবেইন ইয়াসিয়াজ ভূইয়া।

চিকিৎসক দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আয়মন হোসেন, হেলথ ইন্সপেক্টর মনিকা লেনচেও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) বন্ধনা তংচংগা।

দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ছিলেন প্রায় ২০-২৫ জন পুরুষ, ৩০-৪০ জন নারী এবং ৩০-৪০ জন শিশু।

মেডিকেল অফিসার ডা. আয়মন হোসেন জানান, চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পে উপস্থিত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩৮ বিজিবির মেজর তাবেইন ইয়াসিয়াজ ভূইয়া বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরে প্রায় ৬ হাজারের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকার অনেক শিশু শিক্ষা বা অন্যান্য কারণে বাইরে অবস্থান করায় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। পাহাড়ি দুর্গম পথ ও অনুপস্থিতির কারণেও কিছু শিশু টিকা পায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “হাম রুবেলা ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ চলছে। সকলের সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। 

স্থানীয়দের জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এমন সময়োপযোগী যৌথ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রশংসনীয় মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy