তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, হুমকিতে সড়ক সেতু

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

সারাবাংলা

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল

2026-06-21T15:44:14+00:00
2026-06-21T15:44:14+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, হুমকিতে সড়ক সেতু
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ৩৩)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিটার অংশ ভেঙে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রতিদিন মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু দিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ ভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়ে সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছিল। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং দিয়ে কোনোভাবে রক্ষার চেষ্টা করে এলজিইডি। কিন্তু পরে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে আবারও পানির স্রোতের তাণ্ডবে বাঁধটি ভাঙছে।

বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, নদীতে পানি বাড়তেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা এখন ভীষণ আতঙ্কে আছি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসলিমদাতী এলাকার শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরে যাই। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।”

তিস্তা সেতু এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া জানান, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদি উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ আরও বেড়ে যায়, তখন আর কোনো উপায় থাকবে না।

কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, “এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আবাদি জমিও নদীগর্ভে চলে যাবে। অথচ এলজিইডি শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কোনো কাজ করেনি।”

স্থানীয়দের দাবি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু এবং রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, “গত বছর যখন সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়, তখন আমরা এলজিইডিকে ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা শোনেনি। ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সামনে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি ঠেকানো না গেলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, “গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এ ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। সে কারণেই এটি করা হয়েছিল। আবারও ভাঙন দেখা দেওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy