
X
ফাইল ছবি
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সংকটে গত এক মাস ধরে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, বৈশ্বিক সরবরাহ–সংকটের কারণে বিস্ফোরকবাহী জাহাজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে পাথর উত্তোলন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
খনা সুত্রে জানা গেছে বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সংকটে চলতি সনের গত ১৯ মে সকাল থেকে খনির ভূগর্ভে পাথর উত্তোলনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় খনি কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
খনি সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহের দায়িত্ব খনি কর্তৃপক্ষের। তবে সময়মতো এ বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে না পারায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগেও বিস্ফোরক–সংকটের কারণে ২০২২ ও ২০২৫ সালে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। এছাড়া ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটে।
২০০৭ সালের ২৫ মে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি মধ্যপাড়া থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে খনির পাথর উত্তোলন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে। তিন শিফটে পরিচালিত এ কার্যক্রমে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন।
জিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়মিত চলছে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি বিশেষায়িত পণ্য হওয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটের কারণে বিস্ফোরকবাহী জাহাজ পেতে দেরি হয়েছে। ফলে পরিবহন প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “জাহাজটি বর্তমানে সিঙ্গাপুর অতিক্রম করছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। আশা করছি, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম আবার শুরু করা যাবে।”
আমজাদ হোসেন জানান, খনির জন্য মোট ৩০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৮ মেট্রিক টন আসবে, যা দিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি বিস্ফোরকও সরবরাহ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের বিস্ফোরক দীর্ঘ সময় মজুত রাখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ ও পাথর বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের পাথরের মজুত না থাকায় বিক্রি কিছুটা কমে গেছে।