অস্তিত্ব সংকটে শৈলমারী নদী দখলে মেতে উঠেছে অসাধু চক্র

সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া

সারাবাংলা

শৈলমারী নদী খননকাজের ধীরগতির কারণে আবারও জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়েছে বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। এ অঞ্চলের পানি

2026-06-24T14:10:09+00:00
2026-06-24T14:10:09+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
অস্তিত্ব সংকটে শৈলমারী নদী দখলে মেতে উঠেছে অসাধু চক্র
সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ২:১০ পিএম   (ভিজিট : ৬৪)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

শৈলমারী নদী খননকাজের ধীরগতির কারণে আবারও জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়েছে বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। এ অঞ্চলের পানি যে নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হতো, বর্তমানে তার বেহাল অবস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং অবৈধ দখল-দূষণের ফলে অস্তিত্ব বিলীনের পথে শৈলমারী নদী। সময়মতো নদী ড্রেজিং ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় খরস্রোতা নদী আজ ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, প্রবল খরস্রোতা শৈলমারী নদী পলি জমে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। শিবসা নদী হয়ে সাগর থেকে আসা লবণাক্ত পানির সঙ্গে আসা পলিতে ভরাট হয়ে গেছে নদীটি। একসময় এ নদীতে বড় বড় লঞ্চ, কার্গোসহ বিভিন্ন জলযান চলাচল করত। সেই নদীর বর্তমান চিত্র এখন বিশাল মাঠ। নদী রক্ষায় বাংলাদেশ হাইকোর্ট ২০১৯ সালে আইনগতভাবে দেশের সব নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না।

বদনখালী স্লুইস গেটের সামনে দেখা গেছে, শৈলমারী নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। নদীর বুক গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র নদীর জায়গা দখলের উৎসবে মেতে উঠেছে। যে যার মতো দখল নিয়ে ঘের, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে। বটিয়াঘাটা ব্রিজ থেকে সালতা নদীর স্লুইস গেট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বড় ধরনের নদী দখল শুরু হয়েছে।

শৈলমারী নদীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিলডাকাতিয়া, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের একটি বৃহৎ অংশ। নদীর নাব্যতা হারানোর কারণে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বিলডাকাতিয়া ও ডুমুরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বছরে প্রায় ৬ মাস পানিবন্দি থাকে। যদিও বিকল্প পথ হিসেবে গত দুই বছর ময়ূর নদী ব্যবহার করা হচ্ছে, তবুও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসেনি।

জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর শত কোটি টাকার কৃষি ফসল নষ্ট হয়। দীর্ঘ সময় প্লাবিত থাকায় কৃষিজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। গত চার বছরে নদীটি ভয়াবহভাবে পলি জমে ভরাট হয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে গত তিন বছর ধরে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বর্ষা মৌসুমে শৈলমারীর ১০টি ভেন্ট রেগুলেটরের মুখে পলি অপসারণের কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া গত বছর দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন করে সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এত কিছুর পরও ৬ মাস পানিবন্দি ছিল বিলডাকাতিয়াসহ রংপুর, সারাতলা, বটবেড়িয়া, কৃষ্ণনগর, মুজাহারঘাটা, বারানসী, ডুমুরিয়া, খড়িয়া, খলসি, মির্জাপুর, গুটুদিয়া ও মাধবকাটিসহ নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৩০টি গ্রাম।

শৈলমারী নদী খননের ৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হলেও তা বাস্তবায়নে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষ্ণনগর, নিমতলা, বিলডাকাতিয়া, রংপুর, সারাতলা, ষষ্ঠীতলা, বালুইগাছিসহ ১০টি বিলে ছোট-বড় ডজনখানেক খাল খনন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ ও ত্রাণ অধিদপ্তর এসব খাল খননের কাজ বাস্তবায়ন করছে। অথচ এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ শৈলমারী নদী খননের কোনো অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ফলে আবারও জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়েছে পুরো এলাকা।

এ বিষয়ে রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনোজিত বালা বলেন, “বিলডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের মূল পথ শৈলমারী নদী। সেটি বর্তমানে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সরকার বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে সব খাল খননের কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে শৈলমারী নদী খননের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি বিকল্প পথ হিসেবে ময়ূর নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন।”

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান (রংপুর) সৌমিত্র বিশ্বাস বলেন, “গত বছরের পানিতে এখনো ঘের ও বিল তলিয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও এক ফোঁটা পানি কমেনি। যদিও এমপি মহোদয় খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন। শৈলমারী নদীর বিকল্প হিসেবে যদি ময়ূর নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমবে। তবে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন করা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন জানান, “শৈলমারী নদী খননের কাজ দ্রুত শুরু হবে। ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রথমে শৈলমারী স্লুইস গেট থেকে পশ্চিমে অর্থাৎ শরাফপুর অভিমুখে খনন ও ড্রেজিং করা হবে। একই প্রকল্পের আওতায় ৫টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে জার্মানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আগামী আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পাম্পগুলো আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy