
X
বিনামূল্যে আইনি সহায়তা
'সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাবনায় সরকারি আইনী সহায়তা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জোরদার করার লক্ষ্যে প্যানেল আইনজীবীদের নিয়ে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, পাবনার আয়োজনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ও রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ নূরে আলম এবং পাবনার বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।
কর্মশালায় পাবনা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের গত ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ২১ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত একটি সামগ্রিক ও আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরেন বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, পাবনা এর সদস্য সচিব মোঃ আজহারুল ইসলাম।
তথ্যসূত্রে তিনি জানান, উপরোক্ত সময়কালের মধ্যে পাবনা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ৮৫৮টি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) বা মধ্যস্থতার আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭০টি আবেদন সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া ৫৫oটি মামলায় প্যানেল আইনজীবী মনোনয়ন ও মামলার অনুমতি প্রদান এবং ২৩৮ জনকে আইনী পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিগত এই ১৮ মাসে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে অসহায় বিচারপ্রার্থীদের মোট ৭৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৬০ টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে এবং নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে মোট ১৫৮৭ জন সুবিধাভোগী এই প্রত্যক্ষ আইনী সেবা লাভ করেছেন।
প্রধান অতিথির সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, “সংবিধানের ২৭ ও ৩৩ অনুচ্ছেদের আলোকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বিনা খরচে মানসম্মত আইনী সেবা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (NLASO) নিরলস কাজ করছে। ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ’ এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের অঙ্গীকার। প্যানেল আইনজীবীদের মেধা ও বলিষ্ঠ আইনী প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেই এইমহৎ উদ্যোগ সফল হওয়া সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে প্যানেল আইনজীবীদের ভিকটিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ, ট্রাইব্যুনালে দক্ষ উপস্থিতি এবং ‘বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন, ২০০০’ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ নূরে আলম।
পাশাপাশি পাবনার বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এর পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের আওতায় আটক বা হাজতি আসামীদের অধিকার সুরক্ষায় ত্বরিত পদক্ষেপ এবং নিয়মিত জেল পরিদর্শনের মাধ্যমে আইনী পরামর্শ প্রদানের তাগিদ দেওয়া হয়।
কর্মশালায় ২০২৬ সালের কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে মামলা জট কমাতে 'বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (ADR)', নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত আইনী হস্তক্ষেপ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে 'ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও অনলাইন রিপোর্টিং' ব্যবস্থার ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়। প্যানেল আইনজীবীদের জন্য মামলা গ্রহণ, দ্রুত শুনানি, এডিআর-এর চেষ্টা এবং মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের ৪টি ধাপের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করা হয়।