ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর আগামী এক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে অনবরত আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ ভাশান রাইট এই তথ্য জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতের ভূমিকম্পসংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আগামী এক সপ্তাহে ৩ ও ৪ মাত্রার আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।
রাইটের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ মাত্রার একটি আফটারশকের সম্ভাবনাও ৯০ শতাংশের বেশি।
তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আবার ৬ বা ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
ভূমিকম্পের মাত্রার পার্থক্য লগারিদমিক হওয়ায় প্রতিটি ধাপের মধ্যে শক্তির ব্যবধান অনেক বেশি হয় বলেও উল্লেখ করেন এই ভূ-পদার্থবিদ।
তার মতে, ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের তুলনায় প্রায় ১৮০ গুণ বেশি শক্তি নিঃসরণ করে।
বড় দুই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ২২টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি আফটারশক।
প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইউএসজিএস এর মতে, দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পটির ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে; এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা ৩০ শতাংশ।