
X
ছবি: প্রতিনিধি
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া বাইপাস চৌরাস্তার হাজী লিয়াকত আলী মীর সড়কের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটেছে। স্থানীয় উদ্যোগে জলাবদ্ধতায় ড্রেনসহ সড়কে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এই পথ দিয়ে চলাচলরত পোশাক শ্রমিক ও পথচারীরা।
জামগড়ার এই সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা সড়ক। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন ইয়ারপুরসহ আশেপাশের অঞ্চলের লাখ-লাখ পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ পথচারী। শতাধিক শিল্পকারখানার এই ব্যস্ততম সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হতো স্থায়ী জলাবদ্ধতা, যা রূপ নিয়েছিলো চরম দুর্ভোগে। নোংরা পানি মাড়িয়েই চলতে হতো যাতায়াতকারীদের।
সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে অবশেষে এগিয়ে আসেন আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম দুলাল মীর। তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে ইতিমধ্যে ড্রেন সহ সড়কটিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ শেষ করেছেন বলে জানা যায়।
সড়কটিতে চলাচলরত শ্রমিকরা জানান,"আগে একটু বৃষ্টি হইলেই এই রাস্তায় কোমর পর্যন্ত নোংরা পানি জইমা থাকতো। ডিউটিতে যাওয়ার সময় কাপড় নষ্ট হইয়া যাইতো। এখন ড্রেনটা পরিষ্কার করায় পানি নাই, আমরা খুব শান্তিতে যাতায়াত করতে পারতাছি।"
এদিকে স্থানীয় শ্রমিক নেতা ফরিদুল ইসলাম বলেন,"দেরিতে হলেও ব্যস্ততম সড়কটিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগ নেওয়ায় আমিনুল ইসলাম দুলাল মীরের প্রতি সাধারন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই শাখা সড়কটির ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল হওয়ায় এই রাস্তায় কোনো জলাবদ্ধতা নেই বিধায় বর্তমানে পোশাক শ্রমিক সহ পথচারীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন। তবে স্থায়ীভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করার জোর দাবী এই শ্রমিক নেতার।"
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মামুন বলেন,"ড্রেনে জ্যাম থাকার কারণেই এতদিন পানি আটকে থাকায় আমাদের ব্যবসায় ধস নামে। কোন কাস্টমার আসতো না, ময়লা পানি সরানোর ফলে কাস্টমার আসছে, ফলে বেচাবিক্রিও হচ্ছে।"
ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করার মতো ব্যায়বহুল উদ্দ্যোগ নেবার বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম দুলাল মীর বলেন,"চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে মাদক মুক্ত, শ্রমিক বান্ধব, ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ একটি স্বনির্ভর মডেল ইউনিয়ন উপহার দিবেন বলে দল ও জনগনের সমর্থন ও দোয়া প্রার্থনা কামনা করেন। ড্রেন সচল হওয়ায় সড়কটি থেকে নোংরা পানি নেমে গেছে এবং এরফলে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারীরা স্বস্তিতে আসা-যাওয়া করতে পারছেন। মানুষের সেবা করাই আমার নেশা, তাই এই আংশিক সেবা করতে পেরে আমি আনন্দিত। এজন্য জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারলে এই সেবা স্থায়ীভাবে করা যাবে। তাই তিনি আবারও সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।"
ড্রেন সচল হওয়ায় সড়কটি থেকে নোংরা পানি নেমে গেছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এই পথে চলাচলকারী সর্বস্তরের মানুষ। তবে এই স্বস্তি ধরে রাখতে শিল্পাঞ্চলের এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদ এলাকাবাসীর।