
X
ছবি: প্রতিনিধি
সারা দেশেরন্যায় বরিশালেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে শুরু হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টায় বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনজুর ই এলাহী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন জানান, এবার বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার ৮৭টি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৯০৭টি কেন্দ্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৩ লাখ ২ হাজার ৮৪৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পেইনটি শতভাগ সফল ও নিরাপদভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে শিশুদের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উজিরপুর উপজেলায় ১২৬টি অস্থায়ী ও ১টি স্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৮শ’রও বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে এই সেবা গ্রহণ করছেন।
এবারের ক্যাম্পেইনে- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।
১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
কেন প্রয়োজন ভিটামিন ‘এ’?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে সহায়ক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হাম, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত জটিলতার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশেও ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলী সুজা (জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি) এবং জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহবুব মোর্শেদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শওকত আলী, আরএমও ডা. নাজমুস সকিব, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহানাজ শিমুল, ডা. মাসুম বিল্লাহ, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অনামিকা ভট্টাচার্য, ডা. সব্যসাচী তালুকদার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাদিরা পারভিন, উপজেলা হেলথ ইন্সপেক্টর আব্দুল লতিফ মোল্লাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিশুও যেন এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তারা সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে তাদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করার জন্য।