প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ এএম (ভিজিট : ২৪০)

X
ছবি: প্রতিনিধি
দীনি শিক্ষার প্রসার ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে হিফজ ও কওমী মাদরাসার সংখ্যা। উপজেলার পৌর সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় মনোরম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব মাদরাসায় পবিত্র কোরআন শিক্ষা, হাদিস ও কিতাব শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতসহ সাধারণ শিক্ষাও প্রদান করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধার মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। অনেক মাদরাসায় এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
উপজেলা ইসলামীক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলায় পৌর সদরসহ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে তিন শতাধিক হিফজ ও কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ভালুকা পৌর সদর এলাকাতেই প্রায় অর্ধশতাধিক মাদরাসা রয়েছে।
মারকাযুল ফুরকান হিফজ মাদরাসার মুহতামিম (পরিচালক) মোঃ শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “বর্তমান সময়ে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের কোরআন-হাদিস শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার মাধ্যমে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিভাবকদের আগ্রহ ও সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হচ্ছে।”
ভালুকা উপজেলা ইসলামীক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপার ভাইজার মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, “দীনি শিক্ষার প্রসারে মাদরাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় হলে শিক্ষার্থীরা সমাজ ও দেশের জন্য আরও দক্ষ ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”
স্থানীয়রা জানান, মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এসব প্রতিষ্ঠান আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, “শিক্ষা মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরিতে হিফজ ও কওমী মাদরাসাগুলো ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।