শ্রীপুরে সরজিৎ-শিমু দম্পতির বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ

মাগুরা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের রাজবংশীপাড়ার অন্তত ২০টি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও

2026-06-29T13:52:13+00:00
2026-06-29T13:52:13+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
শ্রীপুরে সরজিৎ-শিমু দম্পতির বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৫২ পিএম   (ভিজিট : ৪০)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের রাজবংশীপাড়ার অন্তত ২০টি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের সরজিৎ রায় ও তার স্ত্রী শিমু রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গত প্রায় তিন মাস ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন ওই দম্পতি। ভুক্তভোগীরা তাদের পাওনা ফেরত পেতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঋণের চাপে পড়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে সরজিৎ রায় ও শিমু রায় গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ করিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। পরে সেই অর্থ পরিশোধ না করেই তারা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাসিয়াড়া ব্যাপারীপাড়ার আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, শেফালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা, দীপালী বিশ্বাসের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ঝর্ণা বিশ্বাসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মিতা রানীর কাছ থেকে দেড় ভরি স্বর্ণসহ নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছে। এভাবে অন্তত ২০টি পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

এছাড়া, আশা, আদ-দ্বীন, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক), বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতিসহ একাধিক এনজিও থেকে নিজেদের নামে ও অন্যদের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করারও অভিযোগ রয়েছে। এতে ঋণগ্রহীতা পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।

ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম বলেন, সরজিৎ রায় বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে নানা টালবাহানা করত। পরে টাকা না দিয়েই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী দীপালী বিশ্বাস বলেন, আমাকে দিয়ে ২ লাখ টাকা এনজিও থেকে ঋণ করিয়ে নেয়। তারা ঋণ শোধ না করায় এখন কিস্তি আমাকে দিতে হচ্ছে। ঋণের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছি।
স্বর্ণালী সেন বলেন, পুরো গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করেছে সরজিৎ ও তার স্ত্রী শিমু। আমরা তাদের বিচার এবং আমাদের টাকা-স্বর্ণ ফেরত চাই।

বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতির ফিল্ড অফিসার ও উপজেলা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন বলেন, সরজিৎ ও তার স্ত্রী আমাদের সমিতি থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কয়েকটি কিস্তি পরিশোধের পর এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর ফিল্ড অফিসার নাঈম শেখ বলেন, তারা আমাদের সংস্থা থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। মাত্র দুটি কিস্তি দিয়েছেন। এছাড়া গ্রামের আরও পাঁচজনকে দিয়ে ঋণ করিয়েছেন। এখন ঋণগ্রহীতারা বলছেন, তারা সেই টাকা সরজিৎ ও শিমুর হাতে তুলে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল মালেক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এলাকায় নেই। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত সরজিৎ রায় ও শিমু রায়ের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা এলাকায় না থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy