রামগঞ্জে বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। শুরুতে খালেক মোল্লা, মালেক মোল্লাসহ মোল্লা পরিবারের ভূমি দান

2026-06-29T14:45:01+00:00
2026-06-29T14:45:01+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
রামগঞ্জে বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ২:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ২৯১)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। শুরুতে খালেক মোল্লা, মালেক মোল্লাসহ মোল্লা পরিবারের ভূমি দান এবং নুরুল হক মাস্টার, হেদায়েত উল্লাহ মোল্লা ও নুর মোহাম্মদ শেখের সার্বিক সহযোগিতায় কাঠ ও টিনের তৈরি ঘরে বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয়। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় ১৯৮৮ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মিত হয়। পরে ১৯৯৪ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একতলা আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হয়।

এই দুটি ভবনই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয়টির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকেন। এদিকে বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের সাতটি শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

বৃষ্টির পানি ও ঝড়ো বাতাস শ্রেণিকক্ষের ভেতরে প্রবেশ করছে। যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যেই চলছে পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান।

দশম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত আক্তার বলেন, “আমরা অনেক ঝুঁকি ও ভয়ের মধ্যে ক্লাস করি। মাঝে মাঝে ছাদ থেকে বালি-খোয়া পড়ে আমাদের শরীরে। বিদ্যালয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। আমরা সব সময় ভয় নিয়ে ক্লাস করি। অন্যদের বিদ্যালয় কত সুন্দর! আমাদের বিদ্যালয়টি সংস্কারসহ নতুন ভবন নির্মাণ করা খুবই জরুরি।”

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহুল, মেহেদী, মিতু, আয়শা এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন, রোকসানা ও সাকিব জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের ভবনজুড়ে ফাটল ধরেছে। দেয়াল, পিলার, ছাদ ও মেঝে—সবখানেই ফাটল। বড় বড় ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। বই-খাতা ভিজে যায়। ভাঙাচোরা শ্রেণিকক্ষে পড়তে খুব ভয় লাগে। একটি নতুন ভবন নির্মাণ হলে আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারতাম।

অভিভাবক ইমাম হোসেন মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “এই বিদ্যালয়ে আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের ভবন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না।”

আরেক অভিভাবক, সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ও সিঙ্গাপুরপ্রবাসী, টেলিফোনে বলেন, “ঐতিহ্যবাহী পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়টি ভবনসংকটের কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যেন দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব রক্ষা করা হয়।”

সহকারী শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের ভবনটি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা উচিত। আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।”

প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, “বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের সাতটি শ্রেণিকক্ষের বেহাল অবস্থা। বৃষ্টিতে পানি পড়ে। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যেই পাঠদান চলছে।”

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, “আমাকে নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। সাময়িকভাবে সংস্কারের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ের ভবনের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।”

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র বলেন, “পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় একসময় ভূমিসংকটে ছিল। বর্তমানে ভূমির বন্দোবস্ত হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র জমা দেয়নি।”





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy