হাইওয়ে পুলিশের দাবি, শুধু সড়কে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়; এসব যান তৈরির কারখানা বা ওয়ার্কশপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান জরুরি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজার, বটতৈল, আইলচারা বাক্সব্রিজ ও বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশতাধিক ওয়ার্কশপে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হচ্ছে অবৈধ যানবাহন। স্থানীয়ভাবে লোহার এঙ্গেল, স্ক্র্যাপ সামগ্রী ও সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে এসব যান, যেগুলোর কোনো সরকারি অনুমোদন বা ফিটনেস নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাদালিয়া বাজারের একটি বড় ওয়ার্কশপেই প্রতি মাসে শতশত নসিমন-করিমন তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও ওই এলাকায় আরও অন্তত ২০টি ওয়ার্কশপে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন যান তৈরি হচ্ছে। কুষ্টিয়ার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে এসব অবৈধ যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব যানবাহনের অধিকাংশের নেই মানসম্মত ব্রেক ব্যবস্থা, নিরাপদ চেসিস কিংবা আধুনিক নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ চালকদের হাতে এসব যান তুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কেবল সড়কে অভিযান নয়, অবৈধ যান তৈরির মূল উৎস বন্ধ করতে পারলেই দীর্ঘ মেয়াদে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাই অবিলম্বে অবৈধ ওয়ার্কশপগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির বর্তমান ইনচার্জ শেখ সেকান্দার আলী বলেন, হাইওয়েতে কোনো অবৈধ যান চলাচলের সুযোগ নেই। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অবৈধ যান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হলে যেসব ওয়ার্কশপে এসব যান তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন।
নসিমন-করিমন মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ জানান, কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে তিনি এসব যান তৈরি করে আসছেন। তিনি শিকার করে আরোও বলেন সড়কে চলাচলের জন্য এই সকল যানের সরকারি কোন অনুমোদন নেই। অন্যদিকে কুষ্টিয়া সড়ক পরিবহনের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মাহবুব রাব্বানিকে মুঠোফোনে ফোন করলে ফোনটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান জানান, অবৈধ যান প্রস্তুতকারী ওয়ার্কশপগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।