
X
মৃত ফারা ফেরদৌস
দুই মেয়েকেই চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক আব্দুর রশিদ। মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত জীবনই যেখানে তার বার্ধক্যের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হওয়ার কথা সেখানে বড় মেয়ে ৩২ বছর বয়সি ফারা ফেরদৌসের রহস্যজনক মৃত্যু তাকে হতবিহ্বল করে দিয়েছে।
শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট ভবনে একটি ফ্ল্যাট থেকে শুক্রবার উদ্ধার করা হয় এই চিকিৎসকের পচনধরা মরদেহ।
ফারা ফেরদৌস ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএমইউতে ‘কার্ডিওভাসকুলার’ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলায়।
চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধারের পর শোকে স্তব্ধ হয়ে আছেন তার মা ও বাবা। সব দায়িত্ব এখন একাই সামলাচ্ছেন ছোট মেয়ে নঝুলা ফেরদৌস।
ফারার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হলেও পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে করার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে আজিজ সুপার মার্কেটের ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করে আসছিলেন ফারা। মরদেহ উদ্ধারের আগে কয়েকদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। ফোন, বার্তা—কোনো কিছুরই সাড়া দিচ্ছেলেন না তিনি।
উদ্বিগ্ন হয়ে শুক্রবার সেখানে যান ছোট বোন নঝুলা। গিয়ে দেখেন, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বাইরে তীব্র দুর্গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মরদেহ উদ্ধার করে। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শাহবাগ থানার এসআই একরামুল হক।
তিনি বলেন, “খাটের ওপর বসা অবস্থায় টেবিলের ওপর মাথা রাখা ছিল ফারা ফেরদৌসের। দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ পড়ে থাকায় সেটি অর্ধগলিত হয়ে যায়।”
এসআই একরাম বলেন, শরীর ফুলে ও পচে যাওয়ায় বাহ্যিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ বলছে, কক্ষের ভেতরে শতাধিক বই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। খাটে একটি মানিব্যাগ ও চিপসের বক্স এবং টেবিলে একটি লাইটার ও সিগারেট পাওয়া যায়। ইনজেকশনের একটি ভাঙা ভায়ালও পাওয়া গেছে। তার পরনে ছিল একটি ম্যাক্সি এবং মাথায় গামছা জড়ানো ছিল।
এসআই একরামুল বলেন, “প্রাথমিকভাবে স্ট্রোক বা অন্য কোনো স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।”
এসআই একরামুল হক বলেন, “আমরাও পরিবারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তার কোনো মানসিক চাপ, হতাশা বা অন্য কোনো সমস্যা ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে পরিবার বিস্তারিত কিছু বলতে চায়নি।”
সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহে দৃশ্যমান বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরে এবং কয়েকটি স্থানে চামড়া উঠে যায়।