
X
বাড়ছে লাম্পি স্কিন
টাঙ্গাইলের সখীপুরে উপজেলায় গবাদি পশুর মারাত্মক সংক্রামক রোগ ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আক্রান্ত গরুকে সরকারিভাবে এলএসডিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। গরুর মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় এ উপজেলায় খামার খাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে এ রোগের ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়চওনা, কচুয়া, কালিদাস, বহেড়াতৈল, কুতুবপুর, কাকড়াজান, বোয়ালী, তক্তারচালার অধিকাংশ খামারের গরুই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত। প্রতিষেধক সহজলভ্য না হওয়ায় অনেক খামারি বাধ্য হয়ে পল্লী পশুচিকিৎসক ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা, নিম্নমানের ওষুধ প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অজ্ঞতাবশত অনেক কৃষকের গরু হঠাৎ করে আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে ফেলে। ফলে কোন প্রতিষেধক কাজ করে না বাধ্য হয়ে আক্রান্ত গরু মারা যায়।
কচুয়ার কৃষক কালাম মিয়া বলেন, বুঝলাম না কোন সময় গরুর শরীরে গোটা গোটা উঠেছে। বুঝতে পেরে পশু ডাক্তারের কাছে গেলাম, ডাক্তার বলল আগেই টিকা দেওয়া উচিৎ ছিল। এরপর চিকিৎসা দিল টাকা খরচ হলো কিন্তু গরুকে বাঁচাতে পারলাম না।
আক্কাস আলী বলেন, সখীপুর পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা এলাকার কৃষকের গরুর কোন খোঁজ খবরই রাখেন না। আক্রান্ত হওয়ার পর পশু চিকিৎসককে জানালে তারা এসে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা না দিলে চিকিৎসা দিতে চায় না। খবর জানালেও তারা দেখতে আসে না। এছাড়া হাসপাতালে কোন প্রতিষেধকও পাওয়া যায় না। আমার একটি গরু সম্প্রতি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
বেপারী পাড়া গ্রামের মাজেদা খাতুন জানান, আমার গরুটি আক্রান্ত হবার পর আমি কষ্ট করে ৪ হাজার টাকা দিয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ওষুধ এনেছি। এখন আমার গরুটি ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, এ বছর এ রোগে তাঁদের অনেক গরু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খামার ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রায় শতাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়,উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত অনেক গরু প্রাণীসম্পদ অফিসে নিয়ে আসে।লাম্পি স্কিন রোগ মশা ও মাছির কারণে হচ্ছে। আমরা যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.সাইদুর রহমান বলেন,লাম্পি স্কিন ডিজিস একটি ভাইরাস জনিত রোগ। প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে এরোগের প্রতিষেধক সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় খুবই কম, তাও আবার তিনমাস পর পর। যা একটি উপজেলার গরু খামারিদের জন্য যথেষ্ট নয়।
এ কারণে এ রোগের প্রতিষেধক বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়। আক্রান্ত হওয়ার আগেই গরুকে ভ্যাক্সিন দিতে হয়। আক্রান্ত গরুকে সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারলে গরু সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তিনি আক্রান্ত গরুকে গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে না নিয়ে সরাসরি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানান খামারিদের।
তিনি আরও বলেন, গরু মারা যেতে পারে তবে হাসপাতালে কেউ অবহিত করেনি।