নাঙ্গলকোটে কাদের হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, বাবা, মা ও ভাই গ্রেপ্তার

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

সারাবাংলা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক আবদুল কাদের হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বাবা

2026-07-01T15:13:01+00:00
2026-07-01T15:13:01+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
নাঙ্গলকোটে কাদের হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, বাবা, মা ও ভাই গ্রেপ্তার
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম   (ভিজিট : ৭৩)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক আবদুল কাদের হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বাবা লিটন (৫০) ও ছোট ভাই রাকিব হোসেনকে (২০) ফেনী সদর থানার সদরপুর রেলগেট-সংলগ্ন রেললাইন এলাকা থেকে গত ৩১ জুন রাতে আটক করা হয়। এর আগে পুলিশ কাদেরের মা কাজল বেগমকে (৪৫) আটক করে। এ সময় তারা পুলিশের কাছে কাদের হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

এ ঘটনায় কাদেরের স্ত্রী নাজমা আক্তার গত ৩০ জুন কাদেরের বাবা লিটন, মা কাজল বেগম, ছোট ভাই রাকিব হোসেন ও মামা রিপনকে (২২) আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কাদের হত্যা মামলার বিষয়ে বুধবার দুপুরে নাঙ্গলকোট থানার ওসির কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান জানান, গত ২৯ জুন সকালে থানার মোবাইল ডিউটিতে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় এলাকায় একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে নিমজ্জিত অবস্থায় এক অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয়রা মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে এসআই সাজ্জাদ হোসেন আইনগত কার্যক্রম শুরু করেন। পরে বিশ্বস্ত সূত্র ও থানার অন্যান্য কর্মকর্তার তৎপরতায় নিহতের বাবা লিটনের পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর কুরকুটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিহতের মা কাজল বেগম ও বোন লিজা আক্তারকে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কাদেরের বলে নিশ্চিত হয়।

পরে ৩০ জুন আবদুল কাদেরের স্ত্রী নাজমা আক্তার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ২৫ জুন বাড়ির একটি ছাগল বিক্রিকে কেন্দ্র করে পারিবারিকভাবে কাদেরের সঙ্গে তার মা, বাবা ও ভাইয়ের ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ওই রাতেই কাদেরকে তার নানার বাড়ি উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের আদ্রা গ্রামে নিয়ে গিয়ে পুকুরপাড়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

পরে তারা পুকুর থেকে কাদেরের মরদেহ তুলে বাড়িতে নিয়ে নিজেদের রান্নাঘরের ভেতরে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেয় এবং ওপরে স্ল্যাব বসিয়ে দেয়। এরপর স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। তিন দিন মরদেহ রান্নাঘরে থাকার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে গ্রেপ্তার আসামি ও পলাতক আসামি মামা রিপন মিলে নিহত কাদেরের অটোরিকশায় করে ২৯ জুন রাতে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড়-মেরকোটগামী কাঁচা সড়কের পাশে একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে মরদেহটি ফেলে রেখে চলে যায়।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাবা-মায়ের অবাধ্যতা এবং নানা ধরনের অসম্মানজনক আচরণের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কাদেরকে হত্যা করে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy