তালতলীতে সেশন ফি না দেওয়ায় পরীক্ষায় বসতে পারেনি শিক্ষার্থী, ইউএনওর হস্তক্ষেপে শনিবার পরীক্ষা

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

সারাবাংলা

বরগুনার তালতলীর বগীহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সেশন ফি বকেয়া থাকায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির চন্দ্র শীলকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায়

2026-07-01T18:47:50+00:00
2026-07-01T18:47:50+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
তালতলীতে সেশন ফি না দেওয়ায় পরীক্ষায় বসতে পারেনি শিক্ষার্থী, ইউএনওর হস্তক্ষেপে শনিবার পরীক্ষা
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ৪৯)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলীর বগীহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সেশন ফি বকেয়া থাকায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির চন্দ্র শীলকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রেণি শিক্ষক শ্রী আকাশের বিরুদ্ধে। 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলে ওই শিক্ষার্থীর বাদ পড়া পরীক্ষাটি আগামী শনিবার নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তার বাকি পরীক্ষাগুলোও নিয়মিতভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিতে আসে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির চন্দ্র শীল। তবে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। সে উপজেলার বগীহাট এলাকার বাসিন্দা শংকর চন্দ্র শীলের ছেলে।

জানা যায়, বগীহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছিল। এতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির চন্দ্র শীল পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে। বুধবার সকালে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিতে বিদ্যালয়ে এলে সেশন ফি বকেয়া থাকার কথা জানিয়ে শ্রেণি শিক্ষক শ্রী আকাশ তাকে ওই ফি পরিশোধ করতে বলেন। 

এ সময় শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানিয়ে কিছু সময় চায় এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু তার আবেদন গ্রহণ না করে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। পরে সেশন ফি বকেয়া থাকার কারণ দেখিয়ে তাকে প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড)ও দেওয়া হয়নি। ফলে পরীক্ষা না দিয়েই সে বাড়ি ফিরে যায়।

বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীর বাবা শংকর চন্দ্র শীল ফোনে একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। তবে কোনো সমাধান না পেয়ে ছেলেকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীর বাবা শংকর চন্দ্র শীল বলেন, আমার ছেলের পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব টাকা পরিশোধ করেছি। শুধু আর্থিক সংকটের কারণে সেশন ফি সময়মতো দিতে পারিনি। সেই কারণেই আমার ছেলেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়ের রাশেদ নামের এক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অনুরোধ করেছি, যাতে আমার ছেলেকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে ছেলেকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেছি।

এ বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষক শ্রী আকাশ বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছিল সেশন ফি ও পরীক্ষার ফি পরিশোধ করার পরই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে। ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে এলে আমি তার কাছে সেশন ফি চাই। সেশন ফি পরিশোধ না করায় তাকে নিচে পাঠিয়ে বলি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসতে। এরপর সে আর ফিরে আসেনি।

বিষয়টি জানতে চাইলে বগীহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আজ আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম না। আমরা এখন বিদ্যালয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আপনারা এখনই সংবাদ প্রকাশ করবেন না। আমি সরাসরি আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।

তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি খোঁজখবর নিয়েছি। আজ যে পরীক্ষায় শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি সেই পরীক্ষাটি আগামী শনিবার নেওয়া হবে। এছাড়া তার বাকি পরীক্ষাগুলোও নিয়মিতভাবে দিতে কোনো সমস্যা হবে না। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy