
X
সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে বাস টার্মিনাল ও ডিপো নগরীর কেন্দ্র থেকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই করতে বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ পরিদর্শনে পূর্বাচলের ৩ ও ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী বাস টার্মিনাল, চুনকুটিয়া (জেলখানার বিপরীতে বাঘাইর), তেঘরিয়া আন্ডারপাস, হাসনাবাদ (ইকুরিয়া), কাঁচপুর এবং ফুলবাড়িয়া এলাকা ঘুরে দেখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর প্রবেশমুখে আধুনিক বাস টার্মিনাল ও ডিপো স্থাপনের মাধ্যমে দূরপাল্লার বাসের অপ্রয়োজনীয় নগর প্রবেশ কমানো, ট্রাফিক চাপ হ্রাস এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন পরিচালিত হয়।
পরিদর্শন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ (বিপিএম-সেবা), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. আজাদ রহমান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।
এ ছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম. এ. বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খান, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক তালুকদার সোহেলসহ পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সম্ভাব্য স্থানগুলোর বিদ্যমান অবকাঠামো, যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা, সংযোগ সড়কের অবস্থা, প্রয়োজনীয় ভূমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যতে বাস টার্মিনাল ও ডিপো স্থাপনের উপযোগিতা খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর অভ্যন্তরে দূরপাল্লার বাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানজট হ্রাস, গণপরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, কার্যকর আন্তঃসংযোগ সড়ক, গণপরিবহন সমন্বয় এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সহযোগিতা।