
X
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাব
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের লাউতাড়া গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এখন ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে।
রাস্তার দুই পাশের পুকুরে ভাঙতে ভাঙতে সড়কের বড় অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় এটি বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, শার্শা উপজেলার ৯ নম্বর উলাশী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাউতাড়া গ্রামের সরদারপাড়া মোড় থেকে স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকতের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা-পাকা সড়কটি গ্রামবাসীর যাতায়াতের একমাত্র পথ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বেহাল অবস্থা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুই পাশে থাকা তিনটি বড় পুকুরের পাড়ে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা গাইড ওয়াল না থাকায় পানির চাপে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পুকুরে চলে যাচ্ছে। এতে সড়কটি দিন দিন সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইকসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানান, প্রতিদিন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মুসল্লি, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সামান্য অসাবধানতা ঘটলেই পুকুরে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যে কোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই গাইড ওয়াল নির্মাণের দাবিতে মঙ্গলবার (১ জুলাই) শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন লাউতাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদনটি জমা দেন এলাকার প্রতিনিধি মো. শাহীন হোসেন।
আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ। তিনি গ্রামবাসীর প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করে বলেন, “জনস্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ প্রয়োজন। বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে সড়কটির উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা লাউতাড়া গ্রামের মানুষের। তাদের আশা, প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপে সড়কটি দ্রুত সংস্কার হলে প্রায় দেড় হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে