জগন্নাথপুরে পল্লী বিদ্যুৎ এর ভুতুড়ে বিলের কবলে জনজীবন অসহায় গ্রাহকদের আর্তনাদ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নাভিশ্বাস উঠেছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের যন্ত্রণায়। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নামমাত্র বিদ্যুৎ

2026-07-02T12:56:16+00:00
2026-07-02T12:56:16+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
জগন্নাথপুরে পল্লী বিদ্যুৎ এর ভুতুড়ে বিলের কবলে জনজীবন অসহায় গ্রাহকদের আর্তনাদ
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৭৪)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নাভিশ্বাস উঠেছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের যন্ত্রণায়। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নামমাত্র বিদ্যুৎ সেবা পেলেও মাসের শেষে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আকাশচুম্বী বিল। 

এই অস্বাভাবিক বিলের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি, আর অফিসের দায়সারা বক্তব্যে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের বাসা বাড়ীতে না গিয়ে অফিসে বসে গ্রাহকদের বিল তৈরী করে দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায় নিয়মিত যে পরিমানের বিল আসে এই বিলে দুই গুন ব তিন গুন বিল তৈরী করে দেওয়া হয়। অনেকেই বিল আসার পর সরল বিশ্বাসে পরিশোধ করেন। 

অনেক গ্রাহক অফিসে গিয়ে বিল কমিয়ে আসেন। এই নিয়ে অনেক সময় ঝামেল সৃষ্টি হয়। বিল দিতে আসা বিদুৎ অফিসের লোকদের সাথে কথা-কাটাকাটি, তীব্র তর্কাতর্কি হয়ে থাকে। উপজেলার বাসিন্দা জিলু মিয়া একজন দরিদ্র মানুষ। একা বসবাস করা এই মানুষটি কেবল একটি ফ্যান ও দুটি লাইট ব্যবহার করেন। তিনি জানান, আগে প্রতি মাসে ৩০০-৪০০ টাকা বিল দিলেও গত তিন মাসে তার থেকে ৬৩০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। বর্তমানে এক মাসেই এসেছে ৪৬৩৫ টাকা। জিলু মিয়ার প্রশ্ন, দিন-রাত মিলে ১-২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না, সেখানে এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিল আসে কীভাবে? এই বিল পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য আমার নেই।

একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিএনজি ড্রাইভার জাহাঙ্গির মিয়া নামে পেশায় এক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, এক মাসে আমার নামে ২২৫৩ টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ নিয়ে অফিসে গেলে তারা রূঢ় আচরণ করে। পরে মিটার রিডিং দেখালে তারা বিল কমিয়ে ৭৭২ টাকা করে দেয়। এভাবে ইচ্ছামতো বিল ধরিয়ে দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। অফিসে আসা-যাওয়া করতে আমাদের শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়, আর কাজের দিন নষ্ট হয়। এই বিদ্যুৎ ভেলকি বাজি আমাদের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ করে তুলেছেন।

অনেক বিদ্যুৎ অফিসের বিল সংশোধন করতে আসা গ্রাহকরা জানান, অফিসের এমন দায়সারা জবাবে ক্ষুব্ধ আমরা। আমাদের মিটার রিডিং নিতে না পারলে তারা নিজের ইচ্ছেমতো বিল বসিয়ে দেয়। তারা আরো অভিযোগ করেন, কর্মকর্তারা এসি রুমে বসে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন। আমরা ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না, জরুরি কাজ করতে পারি না, রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। মানুষের কষ্টের এই দায়ভার কে নেবে? আমরা এর প্রতিকার চাই। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যেন জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নত হয় এবং এই ভুতুড়ে বিলের নৈরাজ্য বন্ধ হয়।

রমাপতিপুর থেকে হেঁটে বিদ্যুৎ অফিসে আসা এক শফিনা বেগম, বৃদ্ধা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি অসহায় মানুষ। দিনে-রাতে বিদ্যুৎ পাই না বললেই চলে, কখনো ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। যদি বিদ্যুৎ ব্যবহারই না করি, তবে এতো টাকা বিল আসে কীসের? এটা কি বিদ্যুৎ বিল, নাকি আমাদের সাথে ফাজলামি?

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) ঋষিকেশ বিশ্বাস এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জনবল সংকট ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করান। তিনি দাবি করেন, কর্মী সংকটের কারণে বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে এলাকায় গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া সম্ভব হয় না। সে কারণেই বিল বেশি চলে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের যে সকল গ্রাহকদের বিদুৎ বিল বেশি আসে তারা আমাদের অফিসে আসলে বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy