
X
খোরশেদ আলম ছয় মাস আগে বিয়ে করেন
বাল্যবিয়ে করায় শিক্ষার্থী দম্পতিকে দশম শ্রেণির প্রি-টেস্ট (অর্ধবার্ষিক) পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি প্রধান শিক্ষক। এতে নিজেদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার হতাশা নিয়ে ফিরে আসেন ওই শিক্ষার্থী দম্পতি।
ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাহিদুল হক শিক্ষার্থী দম্পতিকে বাল্যবিয়ে করার অভিযোগে ১ জুলাই থেকে অনুষ্ঠিত দশম শ্রেণির প্রি-টেস্ট (অর্ধবার্ষিক) পরীক্ষায় অংশ নিতে দিচ্ছেন না।
জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মাইদুল ইসলামের ছেলে খোরশেদ আলম ছয় মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পাশের মধ্য কাশিপুর গ্রামের আজিজুল হকের মেয়ে আয়েশা খাতুনকে বিয়ে করেন।
তারা দুজনই কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা বিয়ে মেনে নিয়ে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অভিভাবকদের নির্দেশে দুই শিক্ষার্থী ১ জুলাই অনুষ্ঠিত দশম শ্রেণির প্রি-টেস্ট (অর্ধবার্ষিক) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেন।
পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থী দম্পতির অভিভাবক হিসেবে মেয়ের বাবা আজিজুল হক বিদ্যালয়ে যান। তিনি প্রধান শিক্ষক জাহিদুল হকের কাছে গিয়ে শিক্ষার্থী দম্পতির বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি পরিশোধ করতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, তারা বাল্যবিয়ে করেছে, তাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থী খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা শিক্ষিত হতে চাই। আমরা সব পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই। আমাদের লেখাপড়া করার সুযোগ দেওয়া হোক।”
পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থী আয়েশা খাতুন বলেন, “১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া দশম শ্রেণির প্রি-টেস্ট (অর্ধবার্ষিক) পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনেও আমরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাইনি। বিয়ে করেছি বলেই প্রধান শিক্ষক আমাদের লেখাপড়ায় বাধা দিচ্ছেন। আমরা শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা এসএসসি-সহ সব পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই।”
এ বিষয়ে কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এই দুই শিক্ষার্থী বাল্যবিয়েসহ নানা অনিয়ম করেছে। তারা বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাদের জন্য আমরা অন্য শিক্ষার্থীদের ভুল পথে যেতে দিতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “এই দুই শিক্ষার্থীর বিয়েতে পরিবার সম্মতি দেওয়ায় আমরা বিদ্যালয় থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছি, তারা আর এখানে লেখাপড়া করতে পারবে না। তবে তারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস ছালাম বলেন, “বাল্যবিয়ে অপরাধ। তবে বিয়ে হলে কেউ লেখাপড়া বা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না—এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। বরং বিবাহিত শিক্ষার্থীরা যাতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে সুযোগ ও অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।”