
X
ছবি: প্রতিনিধি
সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন নওগাঁর রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান। সবুজের ফেরিওয়ালা' ও 'গাছপ্রেমী' হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ২৪টি জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার ফলদ, বনজ, ফুল ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করেছেন।
রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের ২০ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর পরিচালিত সবুজায়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণ করেছেন। এছাড়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।
শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গির্জা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তিনি নিয়মিত গাছ রোপণ ও চারা বিতরণ করে আসছেন।
সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তিনি প্রায় ৪ হাজার গাছ রোপণ ও বিতরণ করেছেন।
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায়ও তাঁর সবুজায়নের ছাপ স্পষ্ট। হাসাইগাড়ি বিল, সান্তাহার রেলস্টেশন, পত্নীতলা নদীর পশ্চিম পাড়, সিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষ্ণচূড়া চত্বর ও বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। পত্নীতলার ডাবরকুড়ি থেকে মহাদেবপুর উপজেলার শেষ প্রান্ত পয়নারী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ বিভিন্ন ফুল ও ফলজ গাছ রোপণ করেছেন। এলাকাবাসীর কাছে এই সড়কটি এখন 'কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি' নামে পরিচিত।
অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান জানান, ছাত্রজীবন থেকেই বন্ধুদের নিয়ে নিজ এলাকায় কয়েক হাজার তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সেই উদ্যোগের ফলেই বর্তমানে এলাকাটি 'তালপার্ক' নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
তিনি আরও জানান, নিজের বেতনের একটি অংশ সঞ্চয় করেই দীর্ঘদিন ধরে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। তাঁর স্বপ্ন, দেশের ৬৪টি জেলাতেই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সবুজে ঘেরা একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝেও নিয়মিত গাছের চারা বিতরণ করেন।
অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে সবুজের ছোঁয়া থাকবে প্রতিটি জনপদে। গাছের পাতায় পাতায় বোনা থাকবে ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
তিনি দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, চলতি বর্ষায় প্রত্যেকে অন্তত চারটি করে গাছ লাগাই। পরিবেশ রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এর কোনো বিকল্প নেই।
নিজস্ব উদ্যোগ, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং পরিবেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান আজ অনেকের কাছেই সবুজ বিপ্লবের এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।