প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৮ পিএম (ভিজিট : ৬৪)

X
ছবি: প্রতিনিধি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী একটি ঘরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন আকলিমা বেগম (৬৫) নামে এক অসহায় বিধবা নারী। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না। মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়টুকুও এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম।
জানা গেছে, আকলিমা বেগমের স্বামী মরহুম আব্দুস ছামাদ ছিলেন একজন দিনমজুর। প্রায় আট বছর আগে তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। তারাও অভাব-অনটনের মধ্যে থাকায় মায়ের দায়িত্ব নিতে পারছেন না। বর্তমানে আকলিমা বেগম তার বিধবা মেয়ে আজমিনা বেগমের সঙ্গে বসবাস করছেন।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আজমিনা বেগম। তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে মা-মেয়ের দুই সদস্যের সংসার চলে। কিন্তু একদিন কাজ না পেলে সেদিন অনাহারে কিংবা অর্ধাহারে কাটাতে হয় তাদের। এর মধ্যেই অসুস্থ মায়ের ওষুধের খরচ বহন করাও তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি খাস খতিয়ানের একটি ছোট্ট জমির ওপর বহু বছর আগে নির্মিত মাটির ঘরেই বসবাস করে আসছিল পরিবারটি। প্রায় চার বছর আগে ঘরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে আজও ঘরটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। ঘরের চালের টিন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, দেয়ালগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর ঝড়-বৃষ্টির রাতে নিরাপত্তাহীনতায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় মা-মেয়েকে।
আজমিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঘর সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি। অসহায় এই পরিবারটি এখন প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং দানশীলদের সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
তিনি বলেন, “একটি নিরাপদ ঘর আর মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে আমাদের জীবনে একটু স্বস্তি ফিরবে।”
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।"
স্থানীয়দের মতে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির জন্য দ্রুত একটি বাসযোগ্য ঘরের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।