প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪১ পিএম (ভিজিট : ২৫)

X
সংগৃহীত ছবি
সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় শিকারিদের ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই তাকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থল সুন্দরবনে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বনে অবমুক্তির পর বাঘিনীটির নিরাপদ অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য তার গলায় স্যাটেলাইট-সংযুক্ত রেডিও কলার পরানো হবে। এর মাধ্যমে তার গতিবিধি ও আচরণ নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আটকা পড়েছিল বাঘিনীটি। খবর পেয়ে বন কর্মীরা ট্রাঙ্কুলাইজিং বন্দুকের মাধ্যমে সেটিকে অচেতন করে উদ্ধার করেন। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ের প্রায় তিন ইঞ্চি অংশের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বাঘিনীটিকে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে এনে রাখা হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল দীর্ঘ ছয় মাস ধারাবাহিক চিকিৎসার মাধ্যমে বাঘিনীটিকে সুস্থ করে তোলেন।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর বাঘিনীটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। তার শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক বন্য আচরণ ফিরে এসেছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে সুন্দরবনের যে এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানেই আবার অবমুক্ত করা হবে বলে জানান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
তবে অবমুক্তির পর বাঘিনীটির অবস্থান, চলাফেরা, শিকার ধরার সক্ষমতা এবং তার আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে গবেষক ও বনকর্মীরা স্যাটেলাইট-সংযুক্ত রেডিও কলার ব্যবহার করবেন।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ জানান, বাঘিনীটি পুনরায় লোকালয়ে চলে আসার ঝুঁকি মাথায় রেখে স্যাটেলাইট কলার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বাঘিনীর গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা যাবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।
তবে সুন্দরবনের বাঘের জন্য এখনো শিকারিদের পাতা ফাঁদ একটি বড় হুমকি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শুধু উদ্ধার ও চিকিৎসা নয়, বাঘ রক্ষায় শিকার প্রতিরোধেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আর এ জন্য সুন্দরবনে বন বিভাগের নজরদারি ও টহল বাড়ানো খুবই জরুরি।