প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম (ভিজিট : ৬৪)

X
ছবি: প্রতিনিধি
পরীক্ষার কক্ষে সবাই বেঞ্চে বসে একমনে প্রশ্নের উত্তর লিখে যাচ্ছেন খাতায়। তাদের পাশে বসে লিখছেন আরেক শিক্ষার্থী কলি রানী। তাকে দেওয়া হয়েছে ছোট ব্রেঞ্চ। আর সেখানে বসেই মনোযোগ সহকারে পা দিয়ে উত্তর লিখে যাচ্ছেন তিনি। দূর থেকে একনজরে দেখলে কলি রানীকে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও বাহু থেকে দুই হাতের কব্জি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাকে দমাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় কলি রানী রংপুরের কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের কক্ষে বসে মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেন ।
কলি রানী রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে।
কলি রানীর জন্ম থেকে তার দুই হাতের কব্জি নাই। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে কারও সহযোগিতা ছাড়াই পা দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। মৃত মনোরঞ্জন রায়ের ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে কলি রানী সবার ছোট। প্রতিবন্ধীকতাকে ডিঙিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্ন পূরণের আশায়। কলি রানী লেখাপড়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যে গান গেয়ে একাধিক সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছে। এছাড়া পা দিয়ে চালাতে পারেন কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন। কলি রানী জানাই, তার ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করতে।
কলি রানীর ভাই মন্টু রাম রায় জানান, জন্ম থেকেই তার বোনের হাতের আঙ্গুল নেই, হাত বাকা ও ছোট তাই হাত দিয়ে কলম ধরতে পারে না। বোনের অদম্য ইচ্ছা শক্তি দৃঢ় মনোবলে ডান পা দিয়ে আস্তে আস্তে লেখা শুরু করে।পঞ্চম শ্রেণীতে সে পায়ে লিখে এ গ্রেড পেয়েছিলো। এসএসসিতে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে অদম্য শিক্ষার্থী কলি রানী।
তিনি বোনের স্বপ্ন পূরণের জন্য বিত্তবান ও দয়াবান মানুষের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
কাউনিয়া মহিলা কলেজের কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, পরীক্ষা কক্ষে অন্যদের সাথে কলি রানী পা দিয়ে খাতায় লিখছে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কেন্দ্রের নিয়ম মেনে তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা জানান, কলি রানীকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকে রাখতে পারেনি। আমরা চাই তার অদম্য অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়। সে যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে।