প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম (ভিজিট : ৫১)

X
সংগৃহীত ছবি
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং দেশজুড়ে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ এই আয়োজনে অংশ নিতে পারেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এ আয়োজনে নজিরবিহীন ভিড় ও বৈশ্বিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এ হিসাব বাস্তবে রূপ নিলে ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
চার মাস আগে নিহত হওয়া খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় এরই মধ্যে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
১৯৮৯ সালের ৬ জুন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্য ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেদিন লাখো মানুষের ঢলে জানাজার শোভাযাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শোকাহত জনতা মরদেহ বহনকারী পথ আটকে দিলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হন, যার মধ্যে খোমেনির ছেলে আহমদ খোমেনিও ছিলেন। ওই ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে গুলিও ছোড়ে। পরে অবস্থা আরও অবনতির কারণে সেদিন দাফন কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং পরদিন সকাল ৭টায় পুনরায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সারারাত মরদেহের পাশে অবস্থান করেছিলেন বলে জানানো হয়।
পরবর্তীতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস খোমেনির জানাজাকে জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ধারণা করা হয়, এতে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যা তখনকার ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন করে রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে, যা ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম ও আন্তর্জাতিক নজরদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।