
X
কৃষিবিদ ড. মো. মন্জুরুল কাদির
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মন্জুরুল কাদির বলেন , সরকারের টেকসই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে যুগপৎভাবে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে কার্বন ক্রেডিট অর্জন এবং মৌমাছি ও পাখির জন্য উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল তৈরি করা সম্ভব হবে।
এতে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে কার্বন ব্যবসা থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে অন্যদিকে মৌমাছির সঠিক পরাগায়নের ফলে স্থানীয় কৃষিতে বিশেষ করে ধান, সরিষা, সূর্যমুখী, ডালজাতীয় শস্য এবং বিভিন্ন ফল, সবজি ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনসহ মসলার উৎপাদন ২০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই, ২০২৬) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে বারি মহাপরিচালক ওইসব কথা বলেন।
এ বছর এ বিষয়ে বিএআরআই এর থিম শ্লোগান "জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই, অভিযোজনই হোক কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ সাফল্য"।
একজাতীয় গাছ না লাগিয়ে প্রকৃতিতে কার্যকর ও শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্র উদ্ভিদ, মসলা ও ঔষধি এবং ফলদ গাছের বিভিন্ন চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিএআরআই-এর মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মন্জুরুল কাদির।
উদ্বোধন পরবর্তী বক্তব্যে ড. কাদির বলেন, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জন এবং মৌমাছির আবাসস্থল সৃষ্টি করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। মৌমাছির আবাসস্থল সৃষ্টির ফলে কৃষকরা মধু ও মোম আহরণ করে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধাও লাভ করতে পারেন। এছাড়া একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে।
অন্যদিকে এ উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলদ গাছ বৃদ্ধি পেয়ে মৌমাছির আদর্শ আবাসস্থল সমৃদ্ধ করবে| এতে মৌমাছিরা গাছ থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন নিশ্চিত করবে। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফসল, বিশেষ করে ফল, সবজি, মসলা ও তেলবীজ পরাগায়নের জন্য মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল। তাই গাছপালা বাড়লে মৌমাছির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে ফসলের ফলন ২০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের আগ্রাসনের গতি প্রকৃতি এতটাই ভয়াবহ যে, কেবল বর্তমান প্রচেষ্টা দিয়ে তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না| তাই জলবায়ু পরিবর্তনের গতিকে রুখতে হলে সরকারের নেওয়া কর্মসূচির সাথে আমাদের প্রচলিত কৃষিবিজ্ঞানকে এআই এবং ডেটা-চালিত প্রযুক্তির সাথে একীভূত করেই সম্মুখে এগিয়ে যেতে হবে|
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা উইং) ড. ফারুক আহমেদ, পরিচালক (উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাউছার উদ্দিন আহম্মেদ, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ উইং) ড. মো. মোশারফ হোসেন মোল্লা সহ বিএআরআই-এর সকল বিভাগীয় ও কেন্দ্র প্রধানগণ, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকবৃন্দ।