প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম (ভিজিট : ৩৪)

X
স্বজনদের আহাজারি
ওমানে কর্মরত অবস্থায় খেজুর গাছ থেকে পড়ে নিহত প্রবাসী হাজীরুল ইসলামের কফিনবন্দী মরদেহ দীর্ঘ এক মাস পর নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। স্বজনদের আহাজারি আর শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।
নিহত হাজীরুল ইসলামের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী শাহাপাড়া গ্রামে। তিনি জীবিকার তাগিদে পরিবারের সুখ-স্বপ্ন পূরণের আশায় ওমানে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে খেজুর গাছে ওঠার সময় দুর্ঘটনাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওমানে থাকা হাজীরুলের সহকর্মী শ্রমিকরা জানান, তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন প্রতিদিনের মতোই খেজুর গাছে কাজ করছিলেন। হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ওপর থেকে নিচে পড়ে গুরুত্বর আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় এক মাস পর হাজীরুল ইসলামের কফিনবন্দী মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায, হাজীরুল ইসলাম দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
শুক্রবার সকাল ১০টায় হাজীরুল ইসলামের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।