গাংনীতে দিনে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, দুর্ভোগে অতিষ্ঠ মানুষ

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

একদিকে রোদের তীব্রতা ও ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মেহেরপুরের গাংনীর জনজীবন। শহরে কিছুটা বিদ্যুৎ মিললেও

2026-07-05T14:13:03+00:00
2026-07-05T14:13:03+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
গাংনীতে দিনে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, দুর্ভোগে অতিষ্ঠ মানুষ
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ২:১৩ পিএম   (ভিজিট : ২৫)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

একদিকে রোদের তীব্রতা ও ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মেহেরপুরের গাংনীর জনজীবন। শহরে কিছুটা বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামে দিন-রাত মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না বিদ্যুৎ। গরমে অতিষ্ঠ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে প্রতিদিন। এতে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কলকারখানা। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষিজমিতে সেচ দিতে কৃষকরা পড়ছেন বিপাকে। কবে বিদ্যুতের এমন দুর্ভোগ কাটবে তা নিশ্চিত নয়, বলে জানায় পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

গাংনী পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের তথ্য মতে, গাংনীতে মোট গ্রাহক ৫১ হাজার ১৭৫। এদের মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৮০ হাজার ৭০২ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৪ হাজার ৬৭৯, শিল্প সংযোগ ৯৭৬, সেচ পাম্প রয়েছে এক হাজার ৯৬৪ জন। অন্যান্য গ্রাহক রয়েছে ৮৭১ টি।

এখানে লোডশেডিংমুক্ত নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। অফ পিক আওয়ার রাত ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাপ্ত বিদ্যুৎ ১৮ মেগাওয়াট। এখানে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ৭ মেগাওয়াট। পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা প্রাপ্তি ১৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি দেখানো হয়েছে ১০ মেগাওয়াট। অফ পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২৭% এবং পিক আওয়ারে ঘাটতি ৩০ থেকে ৩৪%।

গ্রাহকদের অভিযোগ, দাপ্তরিকভাবে বিদ্যুতের যে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে তার চিত্র অনেকটা ভিন্ন। সারাদিনে ৫/৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহক সাধারণ। গ্রাম ও শহরের মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহে রয়েছে বিস্তর বৈষম্য। শহরের তুলনায় গ্রামে চার ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার সহড়াবাড়িয়া মিয়া খামারের মালিক শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, তার এখানে ২৫০ বিঘা বিভিন্ন ফসলের আবাদ রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৩/৪ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। তাছাড়া ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। একই কথা জানালেন জুগির গোফার মৎস্য চাষি বক্কর ডাক্তার। তিনি জানান, তার এলাকায় অন্ততঃ ১৫০টি ছোট বড় পুকুরে মাছ চাষ হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় সেচ দিতে পারছেন না। ফলে মাছ চাষে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ার টিবিলে বসে কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কুঞ্জনগরের পরীক্ষার্থী মিলা আক্তার। রায়পুরের কলেজশিক্ষার্থী নুসরাত ও হেমায়েতপুরের রেশমা জানান, দিনে সমস্যা না হলেও সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক না হলে সিলেবাস শেষ হবে না।

মেহেরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের ডিজিএম শফিউল ইসলাম জানান, প্রয়োজন মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছুটা সিস্টেম লস রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০/৩৪% লোডশেডিং হচ্ছে। কবে এই সমস্যার সমাধান হবে তা তিনিও জানেন না।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy