প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম (ভিজিট : ৩৭)

X
ছবি: প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, আমুচিয়া ও কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের পাহাড় থেকে দলবেঁধে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বন্য হাতির পাল।
গত কয়েকদিন ধরে বন্য হাতি পাল লোকালয়ে বিচরণ করায় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্য হাতির ভয়ে চাষাবাদ ও পাহাড়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
জ্যৈষ্টপুরা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বন্য হাতির দল পাকা দেওয়াল ভেঙে আমার বসত ভিটায় প্রবেশ করে কাঠাল বাগান, নানাবিধ ফসলসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে।
এর আগের দিন ওই এলাকার ব্রাহ্মণ বিলে কৃষকের স্কীমের পাইপ ভেঙে চুরমার করে দেয় বলে জানান কৃষক নিমাই দে। এছাড়া আবু সুফিয়ান নামের এক ব্যক্তির কাঠাল বাগানের ব্যাপক ক্ষতি করে বলে জানান তিনি।
হাতির আক্রমণ থেকে ফসল ও জানমাল রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষ করে উপজেলার জ্যৈষ্টপুরা, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা পাহাড়ি এলাকায় হাতির দল প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে। দিনের বেলা পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই হাতির দল লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে নেমে আসছে।
স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো হাসান চৌধুরী বলেন, হাতির দল শুধু ফসলের ক্ষতিই করছে না, বসতবাড়ি ফলদ বাগানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। হাতির আক্রমণের ভয়ে অনেক কৃষক ক্ষেতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এভাবে হাতির ভয় থাকলে এলাকায় চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, পাহাড়ে যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয় তখন বন্যহাতিগুলো লোকালয়ে প্রবেশ করে। নির্বিচারে বন উজাড় করা হচ্ছে যার কারণে প্রতিনিয়ত হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে খাদ্যের অনুসন্ধান করছে। তবে এ বিষয়ে জনগণের জানমালের যাতে ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি বন্য হাতিগুলোও যাতে সুরক্ষিত থাকে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যে সকল কৃষকের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, হাতির পাল লোকালয়ে আসার খবর পেলে ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তারা সাইরেন বাজিয়ে হাতির পালকে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।