চীনকে রুখতে সামরিক প্রশিক্ষণে তাইওয়ানের পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মুখে তাইওয়ান সরকার এক বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,

2026-07-05T20:45:03+00:00
2026-07-05T20:45:03+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
চীনকে রুখতে সামরিক প্রশিক্ষণে তাইওয়ানের পরিবর্তন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ৩৫)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি


চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মুখে তাইওয়ান সরকার এক বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ ২৫ বছরের বিরতির পর সামরিক একাডেমির গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পুনরায় ‘কমিউনিস্ট-বিরোধী’ দেশাত্মবোধক শিক্ষার কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

 মূলত বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় তাইওয়ানে চীনের কমিউনিস্ট সরকারকে ‘কমিউনিস্ট দস্যু’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিপদ সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করার ব্যাপক প্রচারাভিযান ছিল। তবে ২০০২ সালে সেই ‘কমিউনিস্ট-বিরোধী’ শিক্ষার নাম পরিবর্তন করে কেবল ‘দেশাত্মবোধক শিক্ষা’ রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই পুরনো ধারায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছে তাইওয়ানের সামরিক নেতৃত্ব।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সামরিক কর্মকর্তাদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকিগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। তাদের স্পষ্ট করে বুঝতে হবে ‘আমরা কেন লড়াই করছি এবং কাদের জন্য লড়াই করছি’। সামরিক গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বন্ধু ও শত্রুর পার্থক্য সম্পর্কে পরিষ্কার সচেতনতা গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

 এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড নীতি নির্ধারণী সংস্থা ‘মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল’, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিচার মন্ত্রণালয় এবং শীর্ষস্থানীয় সরকারি থিংক ট্যাংক ‘একাডেমিয়া সিনিকা’-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তারা গ্র্যাজুয়েটদের বিশেষ লেকচার দেবেন। চীনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে এবং দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে বলপ্রয়োগের হুমকি কখনো প্রত্যাহার করেনি।

এদিকে, তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে রেকর্ড সংখ্যক ১১০টিরও বেশি চীনা সামরিক ও কোস্ট গার্ড জাহাজ দেখা গেছে। এগুলো প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল বরাবর অবস্থান করছে। জোসেফ উ-এর মতে, জাপান থেকে তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও বোর্নিও পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় চীনের এই বিশাল নৌ-সংহতি তাদের সম্প্রসারণবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। 


গত শনিবার চীনের কোস্ট গার্ড তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে নতুন করে টহল শুরু করলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় তাইপেই। তাইওয়ানের সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ওই জলসীমায় বেইজিংয়ের কোনো আইনি এখতিয়ার নেই এবং তারা চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমানে তাইওয়ানের আকাশ ও জলসীমায় প্রায় প্রতিদিনই চীনের সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অঞ্চলটিকে কার্যত একটি বারুদস্তূপে পরিণত করেছে।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy