
X
ছবি: প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারীসহ দুই শিক্ষকের ওপর হামলা এবং বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সকালে মেছাঘোনা গ্রামের বিক্ষুব্ধ কিছু লোক মানববন্ধনের নামে বিদ্যালয়ে ঢুকে এ হামলা চালায়। এদিকে নারী শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে গোলনা গ্রামের বিপুলসংখ্যক উত্তেজিত জনতা বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে মেছাঘোনা গ্রামের লোকজনের ওপর পাল্টা হামলার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত নারী শিক্ষককে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ১০ বছর বয়সী ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। পরদিন পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেছাঘোনা গ্রামের উত্তেজিত কিছু মানুষ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধনের আয়োজন করে। তখন বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছিল। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের স্ত্রী মাসুরা খাতুনের (৫৫) ওপর হামলা চালানো হয়। মাসুরা খাতুনও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। স্বামী-স্ত্রী দুজনই ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তবে ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
মেছাঘোনা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষিকা মাসুরা খাতুন শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন।
এছাড়া ধর্ষণের ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের আরও এক সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে উত্তেজিত জনতার ধাওয়া খেয়ে তিনি পাশের এলাকার বাসিন্দা আনছার শেখের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
এ বিষয়ে বাহাদুরপুরের জাকির গাজী বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেছাঘোনা গ্রামের লোকজন বিদ্যালয়ের ভেতরে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। কিন্তু তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় না রেখে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেছাঘোনা ও গোলনা গ্রামের মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দুই গ্রামের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি দেখে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।”
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কিছু উসকানিদাতা ব্যক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। হামলাকারীরা একজন নারী শিক্ষককে মারধর করে আহত করেছে। সবাইকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত না হলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় পুলিশ আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, “শিশু ধর্ষণের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক—আমরাও তা চাই। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য শিক্ষকের ওপর হামলা, বিদ্যালয়ে ভাঙচুর কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মামলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হবে। দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।”