
X
বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন
ধর্ষণ, অপহরণ, প্রতারণা এবং অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগের পর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের সাংগঠনিক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে উপজেলা বিএনপি।
রোববার (৫ জুলাই) মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে যে, কেন তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হবে না।
মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পদ স্থগিতের চিঠিটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ জুলাই বাংলাদেশ বুলেটিনে ‘জামালপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত বুধবার রাতে জামালপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুর্শেদা আক্তার মিহা নামে এক নারী অভিযোগ করেন, মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জমি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে তাকে একাধিকবার জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়।
পরে তাকে ও তার শিশুসন্তানকে অপহরণ করে ডাবের পানির সঙ্গে অচেতনকারী কিছু খাইয়ে দেওয়া হয়। অচেতন অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এছাড়া আগের স্বামীকে তালাক দেওয়া, নিজাম উদ্দিনকে বিয়ে করা এবং পরে তাকে তালাক দেওয়ার মতো জাল নথিতেও তার টিপসই নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, এরপর জামালপুর শহরের বোসপাড়া এলাকার একটি বাসায় টানা ১১ দিন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী আরও জানান, গত ৩০ জুন তিনি জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা তাকে ও তার প্রবাসী স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় তার প্রবাসী স্বামী সেলিম মিয়াও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার স্ত্রীর ছবি বিকৃত করে অশালীন অডিও-ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পদ স্থগিতের চিঠিটি তিনি হাতে পাননি।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।