প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম (ভিজিট : ৪১)

X
ছবি: প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ছয়টি উপজেলার মধ্যে প্রায় সবগুলোই নদীবেষ্টিত। এসব উপজেলার মধ্যে বাজিতপুরের তিনটি ইউনিয়নে সারা বছরই পানি থাকে।
ঘোড়াউত্রা নদীতে বর্ষাকালে একদল অসাধু জেলে কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা, ডিমওয়ালা মাছ এবং মাছের ডিম পর্যন্ত নির্বিচারে শিকার করছে। এসব জালের কারণে গত দুই দশক ধরে দেশীয় মাছ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নিকলী উপজেলার ছাতিরচর, সিংপুর, দামপাড়া ও গুরুই ইউনিয়নের অংশবিশেষ ধনু নদী ও কালী নদীতেও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে কুলিয়ারচর, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার সবকটিই হাওরাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আজ রোববার সকালে এসব উপজেলার হাওরের নদীগুলোতে নৌকায় ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে দেশীয় কাতলা, মৃগেল, রুই, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ধরা হচ্ছে এবং সেগুলো বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হচ্ছে।
বিভিন্ন উপজেলার প্রশাসন সময়ে সময়ে নদী থেকে জেলেদের নিষিদ্ধ ঘোষিত জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেললেও কিছুদিন পরই তারা আবারও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে দেশীয় মাছের পোনা ধরছে।
হাওর এলাকার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর মিঠাপানির দেশীয় মাছ আর পাওয়া যাবে না।
বাজিতপুরের বিভিন্ন আড়তের ব্যবসায়ীরা বলেন, তাদের ব্যবসা এখন মন্দার দিকে। আগামী বছর হয়তো এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় মনোযোগ দিতে হবে। কারণ নদীপাড়ের জেলেরা সারা বছর ছোট মাছ ধরলেও বর্ষাকালে সরকারি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা ধরায় নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। ফলে তাদের ব্যবসায়ও লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, গত কয়েক দিন আগে শিয়ালদী পাড় এলাকা থেকে সরকারি নিষিদ্ধ ঘোষিত জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।