প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ এএম (ভিজিট : ১৬৪)

X
ছবি: প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে বিদ্যালয় পর্যন্ত তীব্র জনবল সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক না থাকায় পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মরত থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। একই সঙ্গে উপজেলার ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ১৬৪ জন প্রধান শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৫ জন। ফলে প্রধান শিক্ষকের ১০৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ৯০৭ টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৬০ জন। অর্থাৎ ৪৭টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদেও জনবল সংকট রয়েছে। ফলে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শতভাগ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় আসার কথা থাকলেও অনেকেই বিভিন্ন কারণে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
একাধিক অভিভাবক বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় মনোযোগ পাচ্ছে না। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।